ব্লগ একাত্তর-

ইন্টারনেট থেকে আয় করার দারুন টিপস

ইন্টারনেট থেকে আয় কথাটি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। এই তো বছর খানেক আগের কথা, খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে আয় করা যেত। মাত্র ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি আইডি কিনে ৫০ ক্লিক করতাম ১ ডলার হয়ে যেত। এখন এই সব কম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইন্টারনেট থেকে আয় করতে পারছিনা। অথচ অনেকেই বলে ইন্টারনেট থেকে আয় করা যায়। এখন আবার কোন নতুন কম্পানী আসছে নাকি?

হারে ভাই, আপনি এমদম ফালতু টাইপের। ক্লিক করে আবার আয় করা যায় নাকি? এগুলো সব ভূয়া। এই তো কয়েক বছর আগে ডুলেন্সার, ক্লিকসেন্স এই রকম আরও অনেক ভূয়া কম্পানী মানুষের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে।

ভাই আপনি যে আমাকে ফালতু বললেন, তাহলে ইন্টারনেট থেকে আয় করা যায় কিভাবে?

শোনেন ভাই ইন্টারনেট থেকে আয় করতে হলে প্রথমে কোন ইনভেষ্ট করতে হয় না। আগে জানুন কিভাবে ইন্টারনেট থেকে আয় করতে হয়? তারপর কাজ শিখুন এবং আয় করুন।

ভাই, তাহলে আমাকে একটু প্রাথমিক ধারনাটা দিন তারপর যদি ভালো লাগে তাহলে কাজ শিখে আয় করব।

এই তো, লাইনে আসছেন। হ্যাঁ আগে আপনাদের অর্থাৎ যারা ইন্টারনেট থেকে আয় করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে একটু ধারনা দিচ্ছি। তাহলে শুরু করা যাক কিভাবে আয় করা যায় ইন্টারনেট থেকে।

ব্লগিং করে আয়:

আপনি ভালো ব্লগিং করতে পারেন তাহলে এই পদ্ধতিটা আপনার জন্য চমৎকার হবে। আগে চিন্তা করুন আপনি কি বাংলায় ব্লগিং করবেন? নাকি ইংলিশ ব্লগিং করবেন। আপনি যদি বাংলায় ব্লগিং করতে চান তাহলে আগে বাংলায় যত ব্লগিং সাইট রয়েছে সেগুলো ভালো করে দেখুন এবং সেই সব সাইটে একটি আইডি খুলে গেষ্ট ব্লগিং করে শিখে নিন কিভাবে ব্লগিং করতে হয়। তারপর ভালো একটি ডোমেইন নাম সিলেক্ট করে কাজে নেমে পড়ুন। আর যদি আপনি আপনি ইংলিশে ব্লগিং করতে পারেন তাহলে তো কোন চিন্তাই নেই। ভালো ভালো একটি ডোমেইন সিলেক্ট করে কাজ শুরু করে দিন। খুব চিন্তা হচ্ছে তাই না? কোন চিন্তা নেই শুরু করে দিন।

গুগল অ্যাডসেন্স:

উপরে যে আলোচনা করলাম তারই একটি অংশ হচ্ছে গুগল অ্যাডসেন্স। অ্যাডসেন্স এখন বাংলা সাইটেও সাপর্ট করে। আপনি যদি ভালো এবং ইউনিক কন্টেন্ট রাইট করতে পারেন তাহলে আপনাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। আর সব থেকে ভালো হয় ইংলশি ব্লগিং করতে পারলে। ভালো একটি নিস সিলেক্ট করে সাইট রেডি করতে পারলে অনেক ভালো হয়। ইংলিশ সাইটের জন্য মোটামুটি ভিজিটর আনতে পারলে স্মার্ট আয় করা সম্ভব। সব থেকে ভালো হয় টেকনোলোজির উপর ব্লগ করতে পারলে। বর্তমান টেকনোলোজির যুগ। এখন গুগলে টেকনোলজির উপর বেশির সার্চ হয়। গুগল অ্যাডসেন্স এখান থেকে আবেদন করুন।

অ্যামাজন অ্যাফেলিয়েট:

ইন্টারনেট থেকে আয়ের জন্য সব থেকে জনপ্রিয় হচ্ছে, অ্যামাজন অ্যাফেলিয়েট। অ্যামাজন অ্যাফেলিয়েট এর চাহিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অ্যামাজন অ্যাফেলিয়েট করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। ভালো একটি নিস সিলেক্ট করে তার উপর ওয়েবসাইট রেডি করে ফেলুন। তারপর প্রডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল লিখুন। আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ওয়েব ডিজাইন:

বর্তমান বিশ্ব এখন অনলাইন এর উপর নির্ভর করছে। যে কোন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত কাজেও ওয়েবসাইট তৈরি করছে। প্রতিদিন যে হারে ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে সেই পরিমান ওয়েব ডেভোলপার নেই। তাই ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভোলপার হতে পারলে ভালো একটি আয় করা সম্ভব হবে। কাজ শিখে আপনি লোকাল পর্যায়ে কাজ করতে পারবেন। এখন বলতে পারেন, লোকাল পর্যায়ে কাজটা আবার কি? হ্যাঁ আমি বলে দিচ্ছি। আপনার নিজ এলাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তিগত কাজে ওয়েবসাইট তৈরি করে তাদের কাছ থেকে কাজ নিতে পারেন। আবার এখন তো স্যোশাল নেটওয়ার্কের যুগ। ফেসবুক পেইজ খুলে বিজ্ঞাপন দিয়েও কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও odex, upwork এ অ্যাকাউন্ট খুলে ক্লাইন্টদের কাজ করে ভালো আয় করতে পারবেন।

SEO- Search Engine Optimization:

প্রথমেই আসি এসইও কি? আপনি কোন বিষয় জানার জন্য সার্চ করলে সে অনুযায়ী সবচেয়ে ভাল তথ্যবহুল যে সাইট টি আছে আপনাকে সেটা দেখাবে। যেখানে ভিজিট করলে আপনি আপনার কাঙ্খিত তথ্য গুলো পাবেন। এভাবে আপনি আপনার সাইটটি যেভাবে গুগলের টপে নিয়ে আসবেন এটাই এস ই ও এর কাজ। আপনি যেভাবে করে নিজের সাইটকে সবার উপরে প্রথম পেজ এ আনবেন এই কাজটাকেই এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন । কোথায় শিখবেন এস ই ও ?? 

এস ই ও শেখার বিভিন্ন উপায় আছে।

১। ট্রেনিং সেন্টার গিয়ে শিখতে পারেন।

২। বিভিন্ন ব্লগ পরে বা গুগুলের সাহায্য নিয়ে শিখতে পারেন।

৩। ইউটিউব এর ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শিখতে পারেন।

এই আর্টিকেল দেখতে পারেন।

এসইও শিখতে আপনাকে যা যা শিখতে হবে তা নিচে দেখুন ?

  • Basic concepts of a website promotion
  • Discussion on White Hat, Grey Hat and Black Hat SEO
  • Keywords
  • Back Links
  • Anchor Text
  • Page Rank
  • Website Age
  • Understanding Authority
  • Ranking Factors
  • Introduction to Keyword Research
  • Keyword Tools
  • Finalization of Keywords
  • Domain Selection & SEO Friendly Website Structure
  • Single Page Optimize
  • txt and Sitemap.xml
  • Important on site factors
  • Google Webmaster Tools & Analytics
  • Link Strategy & Monitoring
  • Reporting, Portfolio building & Auditing

ই-কমার্স থেকে আয়:

ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসেব অনুযায়ী এই খাতে মাসে এখন প্রায় সাতশো কোটি টাকা লেন-দেন হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। ব্যবসা শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় আপনাকে অনেক গুরুত্বের সাথে চিন্তা করতে হবে । সেই বিষয়গুলো হলোঃ

·         আপনি কি প্রস্তুত এই ব্যবসার জন্যে

·         কি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান     

·         প্রোডাক্ট এর খরচ এবং পরিবহন খরচ

·         প্রোডাক্ট এর গুণগত মান রক্ষা

·         প্রতিষ্ঠানের নাম নির্ধারণ আইনি কাজ

·         ডোমেইন এবং হোস্টিং নির্বাচন

·         ওয়েবসাইট এর প্ল্যাটফরম তৈরি

·         কিওয়ার্ড রিসার্চ

·         মার্কেটিং

·         পেমেন্ট সিস্টেম

·         প্রোডাক্ট ডেলিভারি

·         কাস্টমার সাপোর্ট

·         টিম ম্যানেজমেন্ট

·         বাজেট নির্ধারণ

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন:

বর্তমান বাজারে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। মার্কেটপ্লেস গুলোতে যত বেশি কোয়লিটি প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারবেন ততই আপনার আয় বাড়তে থাকবে। দক্ষ এবং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে অভিজ্ঞ যে কোন গ্রাফিক্স ডিজাইনার মাসে ৫০০ ডলার থেকে ২,০০০ কিংবা তারো বেশি আয় করতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে হলে আপনি কোন ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে শিখে নিতে পারেন। তবে ইউটিউব বা কোন ব্লগ থেকে ধারনা নিয়ে নিলে কাজটা শিখতে খুব সুবিধা হয়।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে:

দিন দিন অ্যাপস এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। যে কোন ব্যবসা বা ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাপস খুব প্রাধান্য পাচ্ছে। আপনি যদি ভালো অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন তাহলে মোটামুটি আয়ের ভালো আয় করতে পারবেন। নিজের জন্যও যদি অ্যাপস তৈরি করতে পারেন এবং সেই অ্যাপস এ অ্যাডসেন্স করা থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই। শুধু প্রয়োজন হয় মার্কেটিং এর জন্য। এখন অবশ্যই মার্কেটিং করাটা খুব সহজ হয়ে গেছে। ফেসবুক পেজ থেকে প্রোমট করতে হবে। অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে পরে আলোচনা করব। আপনি ভালো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট শিখে নিতে পারেন।

পোষ্টটি আপনাদের কেমন লাগল তা অবশ্যই জানাবেন। আর আমার পোষ্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়োমিত ভিজিট করুন ব্লগ একাত্তর সাইটে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.