ব্লগ একাত্তর-

ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ১০টি অজানা দিক। পড়লে চমকে যাবেন।

পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যাক্তিদের মধ্যে ক্রিস্টোফার কলম্বাস একজন অভিযাত্রী। তাকে নিয়ে রয়েছে অনেক রকমের রমাঞ্চকর গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব তার জীবনের ১০টি অজানা দিক। তো আসুন আমরা আসল কাজে আসি।

১। কলম্বাসের নাম ক্রিস্টোফার কলম্বাস নয়-

ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার তার আসল নাম হচ্ছে ক্রিসতোফোরো কলম্বো। তার নামের পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটিয়ে স্প্যানিশরা তার নাম ক্রিস্তোবাল বলে ডাকতো। কোন প্রমান না থাকায় ক্রিসতোফোরো কলম্বো নামটি তার আসল কিনা তা এটি নিয়েও গবেষকদের সন্দেহ রয়েছে।

২। প্রায় ঐতিহাসিক যাত্রাগুলো বিফল হয়ে গিয়েছিল-

কলম্বাস সব সময় বিশ্বাস করতেন পশ্চিম দিকে যাত্রা করে এশিয়ায় পৌঁছানো যাবে। এর জন্য যা দরকার তা হচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। তিনি চিন্তা করতেন অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করতে পারে ইউরোপ। তিনি অর্থের জন্য বিভিন্ন দেশে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এই সব কাজের জন্য তাকে পাগল ভেবে তাকে কেউ অর্থ দেইনি। তিনি স্পেনের ইসাবেলার দারবারেও অর্থের জন্য কয়েক বছর ঘুরেছেন। শেষের দিকে তিনি মনবল হারিয়ে যখন ফ্রান্সের দিকে যাত্রা শুরু করার জন্য প্রস্তুত হলেন তখনই তার জন্য সুসংবাদ এলো যে, তার এই অভিযানে ইসাবেলা এবং ফানিনান্দ অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্যে করবে।

৩। কলম্বাস ছিলেন প্রতারক-

তিনি একটি বুদ্ধি করলেন যে, এই যাত্রায় যে সবার আগে মাটির সন্ধান পাবেন তাকে তিনি স্বর্ণ উপহার দিবেন এটি ছিল ১৪৯২ সালের দিকের কথা। ১২ই অক্টোবর ১৯৪২ সালে রদ্রিগো ডি ট্রিয়ানা নামের এক ব্যাক্তি প্রথম মাটির দেখা পান। সেই স্থানটির নাম বর্তমানে বাহামার নামের একটি ছোট্র গ্রাম। কিন্তু দুখের ব্যাপার হচ্ছে রদ্রিগো তার পুরস্কার পাননি। কিন্তু কলম্বাস তার নিজের নামের পাশে তার নামটি যোগ করে দিয়েছিল। কলম্বাস বলেন, তিনি নাকি ঐ জায়গায় আগের থেকে আলো দেখতে পান। কলম্বাস আরও বলেন, আলোটি দেখা যাচ্ছিল অস্পষ্ট ভাবে, তাই তিনি কাউকে জানননি। তিনি রদ্রিগোর এই আবিষ্কারের পুরস্কার হিসাবে দারুন একটি ভাস্কয্য করে দিয়ে ছিলেন।

৪। কলম্বাসের অভিযানের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলে  ভয়ানক

১৪৯২ সালে কলম্বাসের সেই বিখ্যাত প্রধান জাহাজ সান্তা মারিয় একদিন পানির চরে আটকে যায়। জাহাজটি চর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার আগে পানিতে ডুবে যায় কলম্বাসের সেই প্রিয় সান্তা মারিয়া। ৩৯ জন সেই জায়গায় আটকে যায়। কলম্বাস চিন্তা করেছিলেন তার এই নতুন যাত্রায় মসলা সহ মূল্যবান সামগ্রী বাণিজ্য করে স্পেনে ফিরে যাবেন। কিন্তু দুখের ব্যবহার হচ্ছে তাকে ফিরতে হলো খালি হাতে। তাকে আরও হারাতে হয় আরও একটি জাহাজ। প্রায় এক বছর ধরে জ্যামাইকাতে পানিবন্দি হয়ে কাটাতে হয়।

৫) কলম্বাস ছিলেন নির্মম গভর্নর

কলম্বাস গর্ভনরের দায়িত্ব পালনের সময় বেড়িয়ে আসে তার রুপ। তিনি হয়ে উঠেন একজন খারাপ শোষক। কলম্বাস এবং তার ভায়েরা মিলে জনগণের উপর জোর-জবরদস্তি করে তাদের নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্যের বেশি লাভ নিয়ে নিজেদের কোষাগার ভর্তি করতেনে। এতে করে তার উপর ঐ অঞ্চলের মানুষেরা তারপর খুব বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তাদের এই বেগুতিক অবস্থা দেখে সরকার তাকে গভর্ণর পদ থেকে বাদ দেয় এবং কলম্বাসকে গ্রেফতার করে স্পেনে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

৬। কলম্বাস ছিলেন একজন ধার্মিক

কলম্বাস ছিলেন একজন ধার্মিক। তিনি ঈশ্বরকে খুব বিশ্বাস করতেন। এর জন্যই কলম্বাসের দেওয়া স্থানের নামগুলো সব ধর্ম সংক্রান্ত। কলম্বাস সব সময় ধর্মীয় পোশাকে যাওয়া-আসা করতেন। অবশ্য তিনি ছিলেন ধনী এডমিরাল তুবও তিনি সন্ন্যাসীরে বেশ ধারণ করে থাকতেন।

৭। কলস্বাস দাস ব্যবসায়ী ছিলেন

কলম্বাস ছিলেন একজন দাস ব্যবসায়ী। তিনি উপনিবেশে গিয়ে দেখেন, সেখানে এমন কোন মূল্যবাদ সম্পদ নেই যা নিয়ে তিনি ব্যবসা করবে। তাই চতুর কলম্বাস চিন্তা করলেন মানুষদেরকে তিনি কিভাবে সম্পদ বানাবেন। তিনি দরিদ্র, অশিক্ষিত মানুষদের অনেক কৌশলে তাদের নিয়ে তিনি দাস ব্যবসা শুরু করেন। রানী ইসাবেলা সিন্ধান্ত নেন যে, তার দেশে কেউ দাসব্যবসা করতে পারবে না। এতে করে কলম্বাসের দাস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।

৮) কলম্বাস নিজের আবিষ্কারকেই কখনই বিশ্বাস করেননি

কলম্বাস যা যা আবিস্কার করেছেন তা তিনি কখনই বিশ্বাস করেনি। তিনি ভাবতেন তার আবিষ্কৃত জায়গুলো ছিল একটু দুরে জাপান, চীন অথবা চেঙ্গিস খানের রাজত্ব। উদ্ভট সব তত্ত্ব আর নিজের ভূল স্বীকার না করার কারণে কলম্বাস তার শেষ দিনগুলোতে ইউরোপে হাসির পাত্র হয়ে থাকতে হয়েছে।

৯। কলম্বাসের নতুন বিশ্বে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল মায়ানদের সাথে

মধ্য আমেরিকার  উপকূল ধরে আসার সময় তার সাক্ষাৎ হয়েছিল একজন বণিকের সাথে। তার সাথে ছিল তামার হাতিয়ার এবং বিয়ায়ের মত পানীয়। কলম্বাস দেখা পেয়েছিলেন উত্তর-মধ্য আমেরিকার মায়ানদের। কিন্তু কলম্বাস তাদের সম্পর্কে আগ্রহ না দেখিয়ে দক্ষিণ দিকে মোড় নেন।

১০। কলম্বাসের দেহাবশেষ সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

কলম্বাস ১৫০৬ সালে দেহত্যাগ করেন। অনেক বছর তার দেহ স্পেনে রাখা হয়। এরপর ১৫৩৭ সালে তার দেহটিকে সান্তো ডমিংগোতে পাঠান। আবারও ১৮৯৮ সালে তার দেহটি স্পেনে ফেরত নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেভিল, স্পেন আর সান্তো ডমিংগোত তার দেহাবশেষ আছে বলে দাবী করা হতে থাকে।

পোষ্টটি কেমন লাগল জানাবেন।

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.