Home / জীবনি / গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য এবং মজার জোকস

গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য এবং মজার জোকস

গোপাল ভাঁড়ের জন্ম, জন্মস্থান এমনকি মৃত্যু সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলে নি। তার কোনো জমি কিংবা সম্পত্তিরও হদিস পাওয়া যায় নি সে অঞ্চলে। গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া গিয়েছে ১৯২৯ সালে নগেন্দ্রনাথ রচিত ‘নবদ্বীপ কাহিনী’ গ্রন্থে। এই গ্রন্থানুসারে, গোপাল ভাঁড় জাতিতে নাপিত ছিলেন, কিন্তু তার গল্পের কোথাও এটি লক্ষ্য করা যায় না। নগেন্দ্রনাথ নিজেকে গোপাল ভাঁড়ের বংশের সদস্য বলে দাবি করেন এবং একটি বংশলতিকাও তৈরি করেন। সেই তালিকায় গোপাল ভাঁড়ের পিতামহ, পিতা ও বড় ভাইয়ের নাম পাওয়া যায়। বংশলতিকাটিতে গোপালের বাবার নাম জানা গেলেও তার মা ও স্ত্রী সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। কিন্তু তার গল্পগুলো থেকে বোঝা যায় তিনি বিবাহিত ছিলেন। গোপালের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। মেয়ের নাম রাধারানী। তার দুই পুত্র রমেশ ও উমেশ। কিন্তু তার এক পুত্রের খুব অল্প বয়সেই মৃত্যু হয়।

গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে তথ্য না পাওয়া গেলেও ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সম্পর্কে বেশ ভালই তথ্য আছে এবং গোপাল ভাঁড় নামে তার কোনো সভাসদ ছিলেন বলে জানা যায় নি।

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পঞ্চরত্নসভার একজন কি গোপাল ভাঁড় ছিলেন? খুব সম্ভব না, কারণ মঙ্গলকাব্যের অন্যতম কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের নাম সে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও গোপাল নামের কেউই এই তালিকায় ছিলেন না। তবে কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে একজন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির কথা পাওয়া যায়; তিনি কোনো সভাসদ নন, একজন দেহরক্ষী। এই দেহরক্ষীর নাম ছিলো শঙ্কর তরঙ্গ, হয়তো তারই রূপান্তরিত চরিত্র গোপাল ভাঁড়।

গোপাল ভাঁড়ের স্ত্রীর বুদ্ধিও

একবার হয়েছে কী, গোপাল তিলের নাড়ু বানাবার জন্য এক হাঁড়ি তিল কিনে এনেছিলো। কোনো এক কারণে নাড়ু আর বানানো হয় নি, আর হাঁড়িটিও গেছে খোয়া। বকুনি থেকে বাঁচতে গোপালের স্ত্রী করলো কী, তিলের নাড়ুর বদলে তালের বড়া হাজির করলো গোপালের পাতে! গোপাল তো অবাক, “তিলের নাড়ু কই? এ তো দেখছি তালের বড়া!” প্রত্যুৎপন্নমতি তার স্ত্রী জবাব দিলো, “তিল থেকেই তো তাল হয় গো!”

গোপাল ঠিকই রাজাকে বুঝিয়ে দিলেন রাজার ভুল।

ঘটনাটি ঘটেছিলো অনেকটা এমন যে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মহারাজ গোপালের মুখ দেখলেন আর সেদিনই নাপিতের কাছে নখ কাটতে গিয়ে মহারাজের কড়ে আঙুলের কিছুটা মাংসও কেটে গেলো। নাপিত নিজের পিঠ বাঁচাবার জন্য বললো, “হুজুর, এতদিন ধরে আপনার নখ, দাড়ি ও চুল কাটছি- কই একদিনও তো একটু আঁচড় লাগেনি! আজ নিশ্চয়ই আপনি কোনো অনামুখোর মুখ দেখেছেন”।

তারপর রাজা বলে কথা! ভাবতে লাগলেন, “আজ সকালে কার মুখ দেখেছি যে আজ এই অনাসৃষ্টি হলো? আরে হ্যাঁ, আজ তো গোপালকেই দেখলাম সবার আগে! সে কি তবে অনামুখো?” ভাবতে দেরি হলো, মৃত্যুদণ্ড জারি করতে দেরি হলো না! কিন্তু গোপাল এই দণ্ডাদেশ শুনে একটুও বিচলিত হলো না। অবিচলিতভাবে রাজাকে বললো, “মহারাজ, ঘুম থেকে উঠে সবার আগে আপনি আমার মুখ দেখেছেন বলে আপনার কড়ে আঙুলের সামান্য মাংস কেটে গেছে। আর ঘুম থেকে উঠে সবার আগে আমি আপনার মুখ দেখেছি বলে আজ আমার মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। ভাবছি মহারাজ, কে বেশি অনামুখো- আপনি না আমি?”

About Pritom

Check Also

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জীবনী সম্পর্কে জানুন। কেমন ছিল তার পুরো জীবন।

শেক্সপিয়ারের লেখা নাটকের আজও জগৎ জোড়া খ্যাতি। তিনি লিখতেন ইংরেজি ভাষায়। কিন্তু এতো ভাল যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *