Home / প্রাচীন ইতিহাস / পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত যত সব অদ্ভুত গল্প

পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত যত সব অদ্ভুত গল্প

যুগ যুগ ধরে মানুষ বিভিন্নভাবে পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। একেক ধর্ম বা জাতির মানুষেরা একেকভাবে পৃথিবী ও এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির কাহিনী বর্ণনা করেছে। তার কোনো কোনোটি হয়তো অনেক জনপ্রিয়। যেমন গ্রীক পুরাণ অনুসারে কেয়াস এবং অন্যান্য টাইটানদের মাধ্যমে পৃথিবী সৃষ্টির গল্প আমরা অনেকেই জানি। তবে বিশ্বের বহু দেশ ও জাতির মধ্যে পৃথিবী সৃষ্টির এমন কিছু চমকপ্রদ গল্প প্রচলিত রয়েছে যা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। এসব গল্প যেমন অদ্ভুত, তেমনি মজার। চলুন আজকে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে এমনই কয়েকটি গল্প জেনে নেওয়া যাক।

১. চীন- পূর্ব এশিয়া

চীনের পৃথিবী সৃষ্টির গল্প বা উপকথাগুলোতে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। চীনা এই উপকথা অনুসারে, অনেক বছর আগে যখন স্বর্গ ও নরক একসাথে যুক্ত ছিল তখন সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড একটি ডিমের মধ্যে আবদ্ধ ছিল।
মহাবিশ্বের সবকিছু এই ডিমের ভিতরে এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়াতো। ঘুরতে থাকা এসব বস্তুর মধ্যে জন্ম হয় ‘পানগু’ নামের এক অতিকায় ব্যক্তির। দীর্ঘ ১৮,০০০ বছর ধরে সে এই ডিমের মধ্যে ধীরে ধীরে বড় হয়। এ সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। এরপর কোনো এক দিন ঘুম ভাঙ্গে পানগুর। ঘুম থেকে উঠে হাই তুলে আড়মোড়া ভাঙ্গে সে। সেই সাথে ভেঙ্গে ফেলে ডিমের খোলস। ফলে ডিমের ভিতর আবদ্ধ থাকা মহাবিশ্ব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হালকা বস্তুগুলো উপরে উঠে গিয়ে আকাশ ও স্বর্গ তৈরি করে। আর ভারি বস্তুগুলো নিচে নেমে এসে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।

২. কুবা সম্প্রদায়- মধ্য আফ্রিকা

তাদের মতে, পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল বমন প্রক্রিয়ায়। তাদের সৃষ্টির দেবতার নাম হলো ‘এমবম্বো’। সবকিছুর শুরুতে গোটা পৃথিবী ডুবে ছিল অন্ধকার আদিম জলে। এই অন্ধকার জলে পা ডুবিয়ে বসে ছিলেন এমবম্বো। হঠাৎ তার গা গুলিয়ে উঠলো এবং তিনি বমি করলেন। বমির ফলে তার পেট থেকে বের হয়ে এলো চন্দ্র, সূর্য ও সব তারা। বের হয়ে আসা সূর্যের তাপে ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে যেতে লাগলো সব জল। দেখতে দেখতে শুকনো ডাঙ্গা ভেসে উঠলো এবং ঘন বাষ্পে সৃষ্টি হলো মেঘ।

আবার বমি করলেন তিনি। এবার তার পেট থেকে বের হলো ৯টি প্রাণী ও মানুষ। এই ৯টি প্রাণী অন্যান্য নানা প্রাণীর সৃষ্টি করলো। এবার এমবম্বোর ৩ ছেলে ঠিক করলো তারাও সৃষ্টির এই কাজে হাত লাগাবে। তারা সৃষ্টি করলো পিঁপড়া, গাছপালা এবং পাখি। সবশেষে এমবম্বো কীভাবে আলো ও আগুন জ্বালাতে হয় তা মানুষকে শিখিয়ে দিলো। এরপর সবকিছু দেখে খুশি হয়ে সব কাজ থেকে অবসর নিয়ে স্বর্গে চলে গেলো এমবম্বো!

৩. চিরোকী- উত্তর আমেরিকা

উত্তর আমেরিকার ‘চিরোকী ইন্ডিয়ানরা’ বিশ্বাস করে সবকিছুর শুরু হয়েছিল একটি পোকা থেকে! তাদের উপকথা অনুসারে প্রাণীরা বাস করতো আকাশের এক স্বর্গীয় রাজ্যে। নিচ দিয়ে তার বয়ে চলতো এক বিশাল সমুদ্র। একবার ডায়ুনিসি (Dâyuni’sï) নামের এক পানির পোকা ঠিক করলো ডুব দিয়ে পানির নিচে কী আছে তা দেখে আসবে। যেই ভাবা সেই কাজ! পানির তলদেশে গিয়ে সে দেখলো সেখানে রয়েছে শুধু নরম কাদা। সে এই নরম কাদা নিয়ে উপরে উঠে এলো। পানির উপরে এসে সেই কাদা সবদিক দিয়ে বেড়ে পৃথিবীর রূপ নিলো।

৫. জাপান- পূর্ব এশিয়া

তাদের উপকথা অনুসারে মহাবিশ্বের শুরুতে সবকিছু আকারহীন বস্তুতে নিমজ্জিত ছিল। চারিদিকে ছিল নিস্তব্ধতা। এই অবস্থা থেকে জন্ম নেয় পদার্থ ও সময়। আর তা থেকে সৃষ্টি হয় স্বর্গ ও বিভিন্ন দেবতার।
এ সময় ৫ জোড়া দেব-দেবীর জন্ম হয়। এদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ জোড় ‘ইজানামি’ ও ‘ইজানাগী’-কে সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচিত করা হয়। তারা একটি বর্শার সাহায্যে মহাজাগতিক বস্তু থেকে কয়েকটি দ্বীপ তৈরি করেন এবং এমনই একটি দ্বীপে মিলিত হন। এরপর ইজানামি সকল জাপানী দ্বীপ ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র দেব-দেবীর জন্ম দেন। এভাবে গড়ে ওঠে পৃথিবী!

পোষ্টি কেমন লাগলো জানাবেন।

About Pritom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *