ব্লগ একাত্তর-

প্রযুক্তি আমাদের জীবনের আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ?

প্রযুক্তি আমাদের জীবনের আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ? প্রত্যেকটা জিনিসের ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া দুইটাই রয়েছে। আপনি যদি ব্যাথার ঔষধ খান তারও কিন্তু উপকার/অপকার দুইটাই রয়েছে। প্রযুক্তি সময়ে সাথে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রযুক্তির সুষ্ঠ ব্যবহার কতজন করে।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ভালো দিক এবং খারাপ দিক আপনাদের মাঝে তুলে ধরব। নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:-

প্রযুক্তির ভালো প্রভাব: প্রযুক্তি আমাদের জীবনের এক আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। আজ থেকে ১০/২০/৩০/৫০/১০০/২০০/৩০০ বছর আগের সাথে বর্তমানের তুলনা করলে অনেক আশ্চার্য লাগে। আপনি যদি ১০ বছর আগের কথাই চিন্তা করেন তাহলেই কিছুটা বুঝতে পারবেন। ১০ বছর আগেও ভালো করে ২জি নেটওয়ার্ক পেতো না। কিন্তু এখন ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে উন্নত রাষ্ট্রগুলো। সময়ের ব্যবধানে আমরা এখন ২জি থেকে ৫জি নেটওয়ার্কে চলে এসেছি।

আগে বার্তা পঠানোর বড় মাধ্যম ছিল পোষ্ট অফিস। একটি চিঠি লিখে দূরে কোথাও পাঠাতে হলে অন্তত পক্ষে ৩/৭ দিন সময় লাগত। অথচ এখন একটি বার্তা পাঠাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। এখন বার্তা পাঠানোর বড় মাধ্যম হচ্ছে মেইল। যে কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও চোখের পলকেই চলে যাচ্ছে।

মনের আদান/প্রদান করার জন্য রয়েছে অডিও এবং ভিডিও কল। আপনি ইচ্ছা করলেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখা এবং কথা বলতে পারবেন।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের এখন অনেক মাধ্যম হয়েছে। ফেসবুক থেকে শুরু করে টুইটার আরও অনেক ধরনের স্যোশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ফলে পুরানো বন্ধুের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে।

প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার ফলে, যাতায়াত ব্যবস্থাও এখন দ্রুত এবং উন্নত হয়ে গিছে। মানুষ আগে কাজের প্রয়োজনে হেঁটে ৮/১০ কিলোমিটার চলে যেত। শুধু তাই না, সময়ও লাগত অনেক। কিন্তু এখন ৮/১০ হাজার মাইল চলে যাচ্ছে ১০ ঘন্টার মধ্যে। বাস, প্রাইভেট কার, বিমান ইত্যাদি মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন পৃথিবীর সব দেশেই অনলাইন ভিত্তিক গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশেও কয়েকটি অনলাইনে গাড়ি ভাড়া করার কম্পানী রয়েছে তার ভিতরে রয়েছে, পাঠাও, উবার ইত্যাদি। এই সব কম্পানীর রয়েছে নিজেস্ব অ্যাপস। আর এই অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনি গাড়ি ভাড়া করতে পারবেন ঘরে বসেই। তাহলে, কত সুবিধা হয়েছে না?

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত হয়েছে। যে কোন ধরনের রোগ নির্ণয় করতে এখন তেমন কোন বেগ পোহাতে হয় না। শুধু তাই না, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন জটিল রোগ নিরাময় করছে। হার্টের রোগ দ্রুত নির্ণয় হচ্ছে এবং চিকিৎসাও হচ্ছে উন্নত। এখন যদি কোন রোগীর হার্টের রোগ ধরাপরে তাহলে হার্টে রিং পড়ানো থেকে শুরু করে বাইপাস সার্জারী করে সুস্থ্য করে তুলছে রোগীকে।

কিডনিতে যদি পাথর জমে তাহলে এখন দ্রুত বের করে ফেলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এত এগিয়ে গেছে যে, কিডনির পাথর ভাঙ্গে ফেলছে চখের পলকে। ফলে রোগী দ্রুত সেরে উঠছে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এখন স্কুল, কলেজে প্রজেক্টর ব্যবহার করে শিক্ষা পাঠদান করছে। আবার প্রজেক্টরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইন্টানেট শিক্ষা দিচ্ছে।

বর্তমান হচ্ছে, স্মার্টফোনের যুগ। স্মার্টফোন ছাড়া মানুষ এখন চলতে পারেনা। স্মার্টফোন হাতে থাকা মানে সারা পৃথিবী হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যাচ্ছে, অনেক ধরনের উন্নত এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপস যা মানুষের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে।

ভ্রমনের ক্ষেত্রেও এখন স্মার্টফোন অনেক সাহায্য করছে আমাদের। প্লে-ষ্টোরে এখন অনেক ধরেন অ্যাপস পাওয়া যায়, ট্রাভেল গাইড নামক অ্যাপস। আপনার স্মার্টফোনে যদি এই রকম ট্রাভেল গাইড অ্যাপস ইনষ্টল করা থাকে তাহলে খুব মজা করে আপনি ভ্রমন করতে পারবেন।

প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মহাকাশ অভিযান আরও সহজ হয়ে এসেছে। মহাকাশ গবেষনায় এখন খুব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। স্যাটেলাইট অধুনিক সভ্যতার একটি বড় আর্শিবাদ। আমরা এখন যত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি তার বড় অবদান হচ্ছে, স্যাটেলাইট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি বড় অংশ হচ্ছে, স্যাটেলাইট।

বর্তমানে এখন শিক্ষিত বেকার যুবক ছেলে/মেয়েরা আউটসোর্স করে সাবলম্বি হচ্ছে এবং বেকারত্বদূর করছে। বর্তমান ফ্রিল্যান্সিং একটি আয়েব বড় মাধ্যম হয়েছে। আউটসোর্সিং এর মধ্যে, অ্যামাজান অ্যাফিলিয়েট, ওয়েবডিজাইন, এস. ই. ও গ্রাফিক্স ডিজাইন, ব্লগিং, গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে আয় করছে।

প্রযুক্তির কু-প্রভাব:- প্রযুক্তি ব্যবহারের ভালো দিক যেমন রয়েছে, তেমন অপব্যবহারও তেমনি রয়েছে। ভালোর দিকগুলো পাশাপাশি খারাপ দিক গুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।

বিশেষ করে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা অতিরিক্ত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে ফেসবুক বেশি ব্যবহার করে। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মন-মানষিকতা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

অতিরিক্ত ইন্টানেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পড়াশোনার উপর ক্ষেত্রে মারত্বক প্রভাব পরে। একটি জরিপে দেখা গিছে ১৮ বছরের নিচে ছেলে মেয়েরা রাত্রে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। যার ফলে এইসব ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার উপর অনেক বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

আর সব থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে চোখের রোগ, মানষিক রোগে ভূগে।

আর এখন বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরা পর্ন ছবি দেখে দেখে নিজেদের যৌনতা দ্রুত নষ্ট করে ফেলছে। যার ফলে শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে।

সৌশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখন প্রায়ই মহিলারাও পরক্রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে পরছে। এর ফলে, সাংসারিক জীবনে হচ্ছে অশান্তি। এমনকি ডিভোর্স প্রযোন্ত হয়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি বেশি উন্নতির ফলে, মানুষ এখন অনেক অলস হয়ে পড়েছে। যার ফলে শরীরে ধরা দিচ্ছে নানার রোগ। একজন সুস্থ্য মানুষের প্রতিদিন ৩/৪ কিলোমিটার হাটা উচিত অথচ হাটার বদলে ব্যবহার করছে মটরসাইকেল, ইজিবাই ইত্যাদি। এর ফলে স্বাস্থ্যর উপর অনেক ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন খাবারকে করছে দূষণ। খাবারের মধ্যে অনেক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছে যা স্বাস্থ্যর জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার পোষ্টটি শেষ করছি। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

নিয়োমিত ব্লগ৭১ ভিজিট করুন।

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.