ব্লগ একাত্তর-

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার সম্পর্কে জানতে হবে, জানাতে হবে।

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার কেন হয়? বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের জন্য দায়ী কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক।

আরও স্বাস্থ্য টিপস জানুন…

১. শারীরিক কসরত বা পরিশ্রম না করলে বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকিবারে।

২. অধিক ওজনসম্পন্ন কিংবা স্থূলকায় ব্যক্তিদের বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

৩. নিয়মিত খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার, তেল চর্বি ও ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য এবং আঁশজাতীয় খাবার কম থাকলে তা খাদ্যের সঠিক হজম ও পরিপাকে গোলযোগ ঘটায়। বাড়ে পলিপ সহ বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে।

৪. শুধুমাত্র ব্রংকাইটিস কিংবা ফুসফুসের ক্যান্সারই নয়, বরং ধূমপানে বাড়ে বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের ঝুঁকিও।

৫. ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষদের মাঝে এই রোগের হার বেশি। তবে ৫০ বা ৪০ এর কম বয়সীদের যে বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার দেখা যায় না তা কিন্তু নয়।

৬. গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে পাঁচ বেলা গরু, খাসি কিংবা ভেড়ার মাংস খান, বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদেরই বেশি থাকে। এ ধরনের মাংসকে বলা হয় রেড মিট বা লালমাংস।

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো জেনে নেয়া যাক।

১. ওজন কমা ও রক্তশূন্যতা

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে ওজন হ্রাস ও রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

২. রক্তমিশ্রিত মল

বয়স চল্লিশোর্ধ হলে যদি নিয়মিত রক্তমিশ্রিত মল দেখা যায় তবে দেরি না করে অবশ্যই স্ক্রিনিং করানো উচিত। রক্তমিশ্রিত মল বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

৩. ঘন ঘন মলত্যাগের ইচ্ছা অনুভূত হওয়া

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর ঘন ঘন মলত্যাগের ইচ্ছা অনুভূত হতে দেখা যায়। এছাড়াও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি, কাশির সঙ্গে রক্ত, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য সহ নানা ধরনের উপসর্গ বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে লক্ষণীয়।

প্রতিকার:

১. অ্যালকোহল গ্রহণ এবং ধূমপান উভয়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চেষ্টা করা উচিত যতটুকু সম্ভব পরিত্যাগ করার।

২. চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলাই উত্তম। বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি হতে পারে দারুণ পদক্ষেপ।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা আপনাকে বহু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার হাত থেকে বাঁচাবে। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে আপনার বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে যাবে।

৪. নিয়মিত স্ক্রিনিং এর কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের আগেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। এতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় সম্ভব। এছাড়াও মলের সাথে অদৃশ্য রক্ত পরীক্ষা বা Fecal Occult Blood Test (FOBT) এর মাধ্যমে বৃহদান্ত্রের জটিলতা নির্ণয় করা সম্ভব। ৪৫ বছরের বেশি বয়স্ক সব মানুষের এক বছর পর পর এই পরীক্ষাটি করা উচিত।

পোষ্টটি আপনাদের কেমন লেগেছে। সবাই ভালো থাকুন।

Advertisements

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.