ব্লগ একাত্তর-

মঞ্চনাটক কবে থেকে শুরু এর ইতিহাস সম্পর্কে জানুন।

মঞ্চনাটক মিশরে একটি ধর্মীয় নাটক অনুষ্ঠিত হয় ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। বিখ্যাত মিশরীয় মিথলজি “মিথ অভ ওসিরিস অ্যান্ড আইসিস” থেকেনাটকটির কাহিনী নেয়া হয়েছিল । নাট্য-সম্পর্কিত প্রথম কোনো ঘটনা যার তথ্য নথিপত্রে পাওয়া যায়। প্রতি বছর সেই সময়প্রতিটি জনপদে বিভিন্ন উৎসবে পরিবেশিত হতো গড ওসিরিসের এই গল্প, ফলস্বরূপ মঞ্চনাটক আর ধর্মের মাঝে দীর্ঘ এক সম্পর্কের সূচনা হয়।

প্রাচীন গ্রিকরা মঞ্চনাটককে একটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে শুরু করে। তারা ট্র্যাজেডি, কমেডিসহ মঞ্চনাটকের অন্যান্য রূপগুলোর, যেমন স্যাটায়ার এর, সুস্পষ্ট ও যথাযথ সংজ্ঞা গঠন করে। গ্রিকদের কাছ থেকেই প্রথম নাটকের সমালোচনার ধারণা পাওয়া যায়।এমনকি পেশা হিসেবে অভিনয়কে বেছে নেয়ার ধারণাও গ্রিকদের থেকেই পাওয়া গিয়েছে।। তারা মঞ্চনাটক নির্মাণের কৌশলেরও উন্নতি সাধন করে। আধুনিক দুনিয়ায় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগুলোকেই অভিযোজিত করা হয়েছে, ব্যাখ্যা করা হয়েছে হাজারো রকমের পন্থায়। উদাহরণস্বরূপ অ্যান্টিগোনে নাটকটির কথা বলা যেতে পারে, ১৯৪৪ সালে ফরাসি নাট্যকার জাঁ আনউই একে ব্যবহার করেছিলেন নাজি বাহিনীর ফ্রান্স দখল নিয়ে বক্তব্য প্রকাশের জন্য, আবার ১৯৪৮ সালে এই নাটকটিই ব্যবহার করেছিলেন জার্মান নাট্যকার ব্রেশ্‌ট, যেখানে তিনি সাদৃশ্য দেখিয়েছিলেন মিশরের প্রাচীন নগরী থিবির শাসক ক্রেওনের সাথে হিটলারের আর থিবির সাথে সাদৃশ্য দেখিয়েছিলেন পরাজিত জার্মানির। গ্রিক মঞ্চনাটকে ব্যবহৃত মুখোশ ব্যাপকভাবে পরিগৃহীত হয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতকের রোমে। শোভাবর্ধক হিসেবে এই মুখোশের ব্যবহার শুরু হয় রোমানদের বাসভবনে ও সরকারি স্থানগুলিতে ।

রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে পশ্চিমা মঞ্চনাটক বিকাশ লাভ করে। এরপর স্পেনে, ইতালিতে, ফ্রান্সে এবং রাশিয়ায় পর্যায়ক্রমিকভাবে অনেকরকম রূপ ধারণ করে মঞ্চনাটক সমৃদ্ধি লাভ করে ষোল, সতের এবং আঠার শতকে। এই শতকগুলিতে মঞ্চনাটকের বিকাশ প্রক্রিয়ার একটি সাধারণ প্রবণতা ছিল রেনেসাঁ এবং গ্রিকদের কাব্যধর্মী নাটক থেকে সরে গিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বাস্তবধর্মী শৈলী, বিশেষ করে শিল্প-বিল্পবকে অনুসরণ করা। আমেরিকার (দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড বা পনের শতকের পশ্চিম গোলার্ধ) উপনিবেশায়নের সাথে সাথে একটি উত্তর আমেরিকান মঞ্চনাটকও প্রকাশিত হয়।

পূর্বদেশীয় (প্রাচ্য) মঞ্চনাটকের ইতিহাস ও আদি উৎসের সন্ধান পেতে চাইলে ফিরে তাকাতে হবে ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত মঞ্চনাটকে। চীনা মঞ্চনাটকও একই সময় থেকে বিদ্যমান।জাপানি মঞ্চনাটক কাবুকি, নোহ এবং কিয়োহজেনরয়েছে সতেরশ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।[১১] চীন, কোরিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে সম্প্রসারিত হয়েছে পূর্বদেশীয় অন্যান্য মঞ্চনাটক।

ইসলামের মধ্যযুগে (সপ্তম খ্রিষ্টাব্দের মধ্যভাগ থেকে তের খ্রিষ্টাব্দের মধ্যভাগ) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিলো পাপেট মঞ্চনাটক (এর মধ্যে ছিলো হ্যান্ড পাপেট, শ্যাডো প্লে বা শ্যাডো পাপেট্রি এবং ম্যারিওনেট প্রোডাকশন থেকে পাপেট পরিবেশনা ) এবং তাজিয়া নামে এক ধরণের আবেগঘন নাটক (প্যাশন প্লে)। তাজিয়ার অভিনেতারা ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের ঘটনাবলীকে যেন পুনরুজ্জীবিত করে তুলতেন তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে। বিশেষতঃ, ইসলামের শিয়া সম্প্রদায়ের নাটক বা পরিবেশনাসমূহ আবর্তিত হয়েছে খলিফা (নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধান) আলী’র পুত্র হাসান ইবনে আলী এবং হুসাইন ইবনে আলীকে ঘিরে।

Advertisements

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.