ব্লগ একাত্তর-

সলিল মজুমদারের কবিতাগুচ্ছ।

ন্যাপথলিন

প্রিয় পোশাকটির মাঝে
এক টুকরো ন্যাপথলিন
মনে পড়ে
মনে পড়ে
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
পুরোনো সুরে
রেখে দেয়া ভায়োলিন।

দাঁড়াশ সাপ

পায়ে গিট দিয়ে
আছে দাঁড়াশ
করছে আকণ্ঠ
গাভীদুগ্ধ পান
পাশে বাছুর ক্ষুধায়
মা অশ্রুসিক্ত
ভাবছে কাল কি করে
বুঝিয়ে দিব মালিককে
সুদসহ দুধ


ভুল করে না হয়

ভুল করে না হয়
একদিন চলে আসলে
এই পথে
আমি না হয় দেখেও
না দেখার ভান করে
দাঁড়িয়ে থাকবো
তুমি আমায় এড়িয়ে
সামনে হাঁটতে থাকবে
আমি জানি
তোমার চোখ দুটি
আমার দিকেই তাকিয়ে
আর আমার হাত দুটি
বারবার তোমার হাত ছুঁতে চাইবে

কে তবে অরণ্য?

পুরুষ বন্য
বাঘ বন্য
হরিণ বন্য
কে তবে অরণ্য ?

কৈ মাছের মত আমি
মেঘের ডাকে
কানে হেঁটে
জল ছেঁড়ে
ডাঙ্গায় এসে
তোমার হাতে পড়ি।

খামটি

প্রেরক হতে
প্রথম ছোঁয়া
প্রথম চুম্বন
প্রথম আলিঙ্গন

প্রাপক খামটি ছিঁড়ে
বাতাসে ছুঁড়ে দেয়
বাতাস টুকরো টুকরো অনুভূতিগুলোকে
নিজের হাতে
ঠোঁটে
বুকে লুফে নেয়।

ভিসুভিয়াস

অভিশপ্ত হও
ভিসুভিয়াসের মত
রক্তধারা নেমে আসুক আগুন হয়ে
গলা বেয়ে
ধ্বংস হোক হারকিউলানিয়াম,পম্পেই
তোমার লাভায়
গতিপথ বদলে যাক
সারনো নদীর
উঁচু হয়ে যাক সমুদ্রতট
সবুজ সবুজরা সব দূরে চলে যাক।

অভিশপ্ত হও তুমি
আমি এ সত্য জেনে গেছি
তুমি কোন জুপিটারের শক্তি নও
আস্ত একটা অভিশপ্ত অভিশপ্ত মানুষের মুখ।


প্রিয় লুডু খেলা

এক গ্লাস কোক
বুদবুদ ফেনা
নেমে আসে
তৃষ্ণা মিশে
যেন চেনা
তৃষিত চোখ

একটু বরফ
একটু হিম
তুমি ছিলে সরব
আমার শরীর ভেঙে নামে ঝিম

মন নড়ে
তোমার শুধু ছয় পড়ে
আমার গুটি কাঁচার ঘরে

জয় হোক তোমার
হার শুধুই আমার

নীল শ্যাম্পেন

শূণ্যতার মুখে
সিগেরেট
ভাঁজ করা ব্লাঙকেট
পূর্ণ হও তুমি
পুণ্য হও তুমি
সিক্ত হও
শাওয়ারে
গুনগুন গান
আমার শূণ্য গ্লাসে
তখন নীল শ্যাম্পেন

শূণ্যতার উড়ে
ধোঁয়া
ব্লাংকেটে
ঘুমিয়ে সুখ ছোঁয়া
সুন্দর হও তুমি
সুন্দর হও তুমি
আলোকিত হও
আঁধারে
গুনগুন গান
আমার শূণ্য গ্লাসে
তখন নীল শ্যাম্পেন

অ্যান্টিভেনম

স্পর্শে ছড়িয়ে দিলে বিষ
শরীর মাঝে
অ্যান্টিভেনম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে
তোমার গোপন পোশাকের সাথে টেবিলের ওপর।

অনিন্দিতা

আদর করে ডাকি, নিন্দিতা
আমার ছোট ডাকে, দিতা
তার ছোট ডাকে, তা
একদিন পাখিদের নীড়ে ফেরা সন্ধ্যায়
কাউকে কিছু না বলে দরজার ওপারে
ঘনিয়ে আসা আঁধারে হারিয়ে যায়।
আ…!!
নিন্দিতা।
আ…!!
দিতা।
আ..!!
তা।

প্যারাসাইট

অনেক পরে বুঝতে পেরেছি,
তোমার হৃদয়ে আমি ছিলাম প্যারাসাইট।
অধিকারে নয়, অনধিকারে প্রবেশ করেছি।
নিজেকে প্যারাসাইট ভাবতে ভাবতে
আজ সত্যিকারে নিজের ভেতর প্যারাসাইটের ফার্ম গড়ে তুলেছি।
ওরা শিখে গেছে কিভাবে
এন্টিবায়োটিকের মোকাবেলা করতে হয়।
আফসোস!!শুধু আমি শিখতে পারিনি মোকাবেলার পাঠ।

Advertisements

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.