ব্লগ একাত্তর-

সোনালী মুরগী পালন। নতুন আশার আলো পোল্ট্রি শিল্পে।

পোল্ট্রি খাত থেকে আমাদের দেশর মাংসের চাহিদা পূরন করে। তাই আমাদের একমাত্র ভরসার স্থল হচ্ছে, পোল্ট্রি শিল্প। ব্রয়লার মুরগী পালন করে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে, সোনালী মুরগী।

দেশের অনেক ব্রয়লার খামারীরা প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে গুনতে তারা সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা। এরও কিছু কারন আছে বাচ্চার চড়া মুল্য, খাবারের চড়া মুল্য, ঔষধের চড়া মুল্য- কিন্তু মাংসের দর নিন্মগতি এবং রোগ বালাইতো আছেই মোট কথা সব কিছু মিলে খামারিরা ফতুর। এই সব কারনে দেশের প্রচুর খামার বন্ধ হয়ে গিছে।

তো যাই হোক এখন নতুন করে আসার আলো দেখাতে পারে সোনালী মুরগী। সোনালী মুরগী পালও সহজ রোগ বালাইও কম হয়। আবার একটু লাভ কম হলেও রিক্সটা কম থাকে। তাই আমি আপনাদের জন্য একটি তালিকা তৈরি করছি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

* বাচ্চার গড় মুল্য ২০ টাকা ।
* পালন করার সময় ৫৫-৬০ দিন।
* ৫৫-৬০ দিনে একটি মুরগী গড়ে ১.৫ কেজি খাদ্য গ্রহন করে। যার বাজার মুল্য গড়ে ৫০ টাকা ( ভালো মানের খাদ্য )।
* একটি মুরগীর গড় ওজন ৫৫-৬০ দিনে ৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে।
* টীকা প্রদান করলে এবং খামার পরিচ্ছন্ন রাখলে রোগ-বালাই আনুপাতিক হারে কম দেখা যায়। সোনালী ( কক ) জাতের মুরগীর ক্ষেত্রে এখনো কোন মহামারী পরিলক্ষিত হয়নি।
* সোনালী মুরগীর মাংসের চাহিদা ব্যাপক। বাজার দরও অনেকটা ভালো। বর্তমান সময় পর্যন্ত গড়ে ১৯০ টাকা কেজি দর হিসেবে মাংস পাইকারি বিক্রয় হচ্ছে। যেটা খুবই সন্তোষজনক।

তাহলে চলুন একটু আয়/ ব্যায় হিসাবটা করে ফেলি:

ব্যায়ঃ
* ঘর — ১ টি মুরগীর জন্য আমি যদি ১.৫ বর্গ ফুট জায়গা ধরি তাহলে ১০০০ মুরগীর জন্য ১.৫x১০০০= ১৫০০ বর্গ ফুটের একটি ঘর দরকার। সহজলভ্য সামগ্রী ( বাঁশ, মুলিবাঁশের চাটাই, টিন ইত্যাদি ) দিয়ে ঘর নির্মাণ করলে খরচ হতে পারে ১০,০০০ – ১২,০০০ টাকা ( কম পক্ষে ২ বসরের জন্য )। কমপক্ষে ২ বসর বা ২৪ মাসে ১১ ব্যাচ মুরগী পালন করা সম্ভব। তাই এটাকে প্রাথমিক খরচ হিসেবে যুক্ত করা হলেও প্রকৃত খরচ হিসেবে ১১ ভাগে বিভক্ত হবে।

১০০০ ( এক হাজার ) মুরগী পালনে খরচ —–

* ১ টি বাচ্চার মুল্য ২০ টাকা হলে ১০০০ বাচ্চার মুল্য- ২০x১০০০= ২০,০০০ টাকা।
* ৫৫-৬০ দিনে ১ টি মুরগী দের কেজি খাবার গ্রহন করলে ১০০০ মুরগীর জন্য খাবার প্রয়োজন ১.৫x১০০০= ১৫০০ কেজি বা ৩০ বস্তা। ভালো মানের এক বস্তা স্ট্যাটার খাবারের মুল্য ১৮০০-১৮৫০ টাকা, যা প্রথম ১০-১৫ দিন দিতে হবে। ভালো মানের এক বস্তা গ্রয়ার খাবারের মুল্য ১৬০০-১৬৫০ টাকা। যা পরবর্তী ৫৫-৬০ দিন পর্যন্ত চলবে। তাহলে দুই ধরনের খাবারের গড় মুল্য যদি আমি ১৭৫০ টাকা ধরে নিয়ে হিসেব করি, তাহলে ৩০ বস্তা খাবারের মুল্য দাড়ায়- ১৭৫০x৩০= ৫২,৫০০ টাকা।
* টীকা ও ঔষধ খরচ ধরে নেই ৫০০০ টাকা।
* একজন লেবার খরচ ৬০ দিনে বা ২ মাসে ১৮০০০ টাকা।
________________________________________
মোট খরচ= ৯৫,৫০০ ( পচানব্বই হাজার পাচশত ) টাকা। সঙ্গে ঘরের খরচের অংশ হিসেবে যোগ হবে ১০৯১ টাকা= ৯৬,৫৯১ টাকা।

আয়ঃ
একটি মুরগী ৫৫-৬০ দিনে গড়ে ৭০০ গ্রাম ওজন হলে ১০০০ মুরগীর ওজন ৭০০ গ্রামx ১০০০= ৭০০০০০ গ্রাম বা ৭০০ কেজি। কিন্তু কিছু মুরগী যদি মরে যায় ? আমরা ৫% মৃত্যু হারে হিসেব করলে ৫০ পিস বা ৫০x৭০০ গ্রাম=৩৫০০০ গ্রাম বা ৩৫ কেজি বাদ দিতে হবে। তাহলে ৯৫০ টি মুরগীর মাংস গড়ে হিসেব করলে ৬৬৫ কেজি হবে। এখন মাংসের দাম আরো একটু কমিয়ে যদি আমরা ১৮০ ধরে গড় হিসেব করি, তাহলে মুল্য দাড়ায়- ৬৬৫x১৮০= ১,১৯,৭০০ ( এক লক্ষ উনিশ হাজার সাতশত ) টাকা।
তাহলে মোট লাভ ১,১৯,৭০০-৯৬৫৯১= ২৩,১০৯ টাকা। এবং এটি আকাশ কুসুম কোন কল্পনা নয়। বাস্তবতার নিরিখে একটি হিসেব। বরং সকল ক্ষেত্রেই আমি খরচ বেশী দেখিয়েছি এবং আয় কম দেখিয়েছি।

তাহরে বন্ধুগন পোল্ট্রি ব্যবসা কি শুরু করা যায়? আর আমার এই পোষ্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে নিয়োমিত ব্লগ একাত্তরের সাথে থাকুন।

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.