ব্লগ একাত্তর-

হার্ডডিস্কে কীভাবে তথ্য জমা থাকে ? জানতে বিস্তারিত পড়ুন।

হার্ডডিস্ক মিনিটে প্রায় চার হাজারেরও বেশিবার ঘুরতে ঘুরতে আপনাকে তথ্য সরবরাহ আর সংরক্ষণ করে।কম্পিউটার মেমোরি দুই প্রকার স্থায়ী বা নন ভোলাটাইল এবং অস্থায়ী বা ভোলাটাইল।হার্ডডিস্কের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু হয় সর্বপ্রথম বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে। একেবারে শুরুর দিকে তথ্য সংরক্ষণের এই ভারী দায়িত্বটা পালন করত পাঞ্চ কার্ড। এরপরে ম্যাগনেটিক টেপ, ম্যাগনেটিক কোর মেমোরি, ম্যাগনেটিক ড্রাম মেমোরি আসে।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো প্রথম আবিষ্কৃত হার্ডডিস্কটিতে সংরক্ষণ করা যেত মাত্র ৫ মেগাবাইট ডেটা। সূচনাটি হয় আইবিএম-এর হাতে ১৯৫৬ সালে। কম্পিউটারটিতে সর্বপ্রথম RAMAC 305 নামের সর্বপ্রথম কম্পিউটারটিতে স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। সাধারণত এখনকার হার্ডডিস্কগুলোতে এই ঘূর্ণন হার্ডডিস্ক ভেদে ৪,২০০-১৫,০০০ আরপিএম এর মধ্যে হয়ে থাকে। আরেকটি বিষয় হলো ডিস্কের উভয় প্রান্তেই কিন্তু ডেটা সংরক্ষণ করা যায়। ডিস্কের উভয় পাশেই থাকে রেকর্ডিং হেডটি। ফলে সেগুলো ডিস্কের উপর স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে প্রয়োজন অনুসারে। এই প্রযুক্তিগুলো কিভাবে বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আপনার প্রতিদিনের ডেটা বা তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে।

গ্লাস বা  অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ডিস্কগুলো। কিন্তু তার আগে বলে রাখা ভালো, ব্যাপারটি এখানে আপনার বোঝার সুবিধার্থে সহজভাবে উপস্থাপন করা হলো, কিন্তু আদতে এর সাথে জড়িয়ে আছে অনেক জটিল গাণিতিক আর বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। ডিস্কের পৃষ্ঠগুলোকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে কল্পনা করুন। দৈর্ঘ প্রস্থে তা কয়েক ন্যানোমিটার ক্ষুদ্র।দৈর্ঘ প্রস্থে তা কয়েক ন্যানোমিটার। একেকটি গ্রেইন, যেগুলো চৌম্বকত্ব ধারণ করে। অনেকগুলো গ্রেইন মিলে একটি গ্রুপ।তথ্য নিয়ে কাজ করা মানেই ০ আর ১ এর খেলা, যাকে আমরা বাইনারি বা দ্বিমিক সংখ্যা পদ্ধতি নামে চিনি। কম্পিউটারের কাছে কেবল ০ আর ১ এর মাধ্যমে সাজানো কিছু কোড, যা আবার কেবল ট্রানজিস্টরের বিদ্যুৎ প্রবাহ অন আর অফ বোঝায়। যদি চৌম্বক ক্ষেত্রের নির্দেশিত বাম দিকটিকে ০ ধরা হয় তাহলে ডান দিকটি হবে ১।  একটি গ্রেইনের গ্রুপ (২০-৩০টি গ্রেইন) কেবলমাত্র একটি বিট সংরক্ষণ করতে পারে। bit যদি হয় ০ আর গ্রেইনের গ্রুপের ক্ষেত্রের দিক যদি হয় ডান দিকে তবে সেটি পরিবর্তন হয়ে যাবে বামে। এ ভাবে সবগুলো বিটকে ডিস্কে বসানোর পর একটি ফাইলকে সংরক্ষণ করা যায়।

ধারণক্ষমতা

প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ঠিক কত বেশি পরিমাণ তথ্যকে ঠেসে রাখা যায়। তথ্য রাখার ঘনত্ব যত বাড়বে ঠিক তত বেশি পরিমাণে তথ্য আমরা জমা করতে পারব। প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ৬০০ গিগাবিট (বাইট নয়, বিট) করে তথ্য রাখা যায়, যা একদম শুরু দিকের হার্ডডিস্কের তুলনায় ৩০০ মিলিয়ন গুণ বেশি। হেড আর ডিস্কের পৃষ্ঠের মধ্যবর্তী দূরত্ব বর্তমানে পাঁচ ন্যানোমিটার, যা আপনার ডিএনএ’র প্রস্থের প্রায় দ্বিগুণ। ১৯৬৫ একটি ভবিষ্যৎবাণী দেন, তা অনেকটা এরকম, প্রতি দুই বছরে কম্পিউটারের ডেটা প্রোসেসিং ক্ষমতা আর স্টোরেজ ঘনত্ব পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ হতে থাকবে এবং আকারে ছোটো আর দাম কমতে থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তির হার্ডডিস্কে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ১০০ টেরাবিট ডেটার জায়গা হবে।

আরও জানুন

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.