Blog71

মিতু বাঁচতে চায়। আপনাদের সাহায্য একান্ত কাম্য

মো মাহফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাক:

তার হাসি-মুখ ম্লান করে দিয়েছে লিউকিমিয়া (অস্থিমজ্জার) ক্যান্সার অসুখে। তার অসুস্থতায় দরিদ্র পরিবারটিতে নেমে এসেছে কালো মেঘের ছায়া। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্যার্জিক্যাল ওয়ার্ডের ২১০ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
মিতু রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দরিদ্র ভ্যান চালক নূর মোহাম্মদ গাজীর মেয়ে। সে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর ছাত্রী। চিকিৎসা ব্যায় বহন করতে গিয়ে এরই মধ্যে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তার ভ্যান চালক বাবা। নিজের ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, বসত ভিটার ৭ শতাংশ জমির ৩শতাংশ বিক্রি করে চালিয়েছেন মেয়ের চিকিৎসা। অপারেশন করে তাকে বাঁচাতে কমপক্ষে ৩/৪লাখ টাকা প্রয়োজন। যা মিতুর দরিদ্র বাবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। পরিবারের সবার চোখের সামনে ধীরে ধীরে শেষ পরিণতি মৃত্যু দিকে এগুচ্ছে মেধাবী মিতু। যা দেখে গোপনে চোখের পানি ফেলছেন তার মা জহুরা বেগম।
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু মিতু বলে, ‘আমি আবার স্কুলে যেতে চাই, বাঁচতে চাই, বন্ধুদের সাথে খেলতে চাই, বাবা আমি কবে ভালো হবো?’ এমন প্রশ্ন জুড়ে দেয় সারাক্ষণ। তাহলে আমিও কি বাঁচবো না। এমন মর্মস্পর্শী ভাষাতে সবার কাছে বাচার আকুতি জানাচ্ছে ৭ বছরের শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত মিতু।
মিতুর বাবা নূর মোহাম্মদ গাজী জানান, গত ১ বছর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধরে ঢাকার শহীদ সোহরওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা গেছে আমার ছোট মেয়েটির লিউকিমিয়া (অস্থিমজ্জার) ক্যান্সার হয়েছে। তারপর থেকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল সহ রাজবাড়ী, ফরিদপুর নেওয়া হয়। অপারেশন ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। আমি গরীব মানুষ এত টাকা কই পাবো ? এখন শুধু টাকাই পারে আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে।
মিতুর মা জহুরা বেগম জানান, এক বছর আগে ডাক্তার দেখানো হয় মিতুর। গত ৩ মাস ধরে মিতু তেমন কিছু খাচ্ছে না। টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে দিন দিন মিতুর পেট ও গলার বাম পাশে অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে যাচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ভুইয়া, ওয়ার্ড সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ বলেন, মেধাবী এ শিশুটি টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে এমনটি হতে পারে না। অপারেশন বাবদ ৩/৪ লাখ টাকা সংগ্রহে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান তারা। মিতুকে বাঁচাতে সাহায্যর জন্য মিতুর বাবাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ইত্তেফাক

Advertisements

আমিন

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.