জানা অজানা

মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারা প্রথম গরিলা

ফ্র্যান্সাইন প্যাটারসন কোকোকে দেখেন ১৯৭১ সালে, যখন কোকো ছিল মাত্র ৩ মাসের বাচ্চা। ড. পেনি তখন আমেরিকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিশ্লেষণ নিয়ে তার পিএইচডি করছিলেন। তার থিসিসের জন্য তিনি একটি চমৎকার গবেষণা করতে চাইলেন। তিনি দেখতে চাইলেন প্রাইমেট বা উল্লুকশ্রেণীর প্রাণীরা কি মানুষের জন্য প্রদত্ত সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (সাংকেতিক ভাষা) বুঝতে এবং ব্যবহার করতে পারে কিনা।

কোকো ছিল স্যান ফ্রান্সিসকো চিড়িয়াখানার সম্পত্তি। পেনি কোনোভাবে তার গবেষণা পরিচালনার জন্য কোকোকে চিড়িয়াখানা থেকে ধার নিতে চাইলেন। প্রথমদিকে চিড়িয়াখানার উত্তর নেতিবাচক ছিল। হতাশ পেনি যখন হাল ছেড়ে দিতে শুরু করেন তখন তিনি একদিন দেখলেন কোকোকে। সে তখন কেবলই তার মায়ের কাছে ফিরে গেছে। প্রথম দেখায়ই পেনির কোকোকে পছন্দ হয়ে গেল।

কিন্তু কোকোর বিশ্বাস অর্জন করা সহজ ছিল না। পেনি প্রতিদিন কোকোকে দেখতে চিড়িয়াখানায় আসতে থাকলেন। এভাবে এক মাস চলল। একমাস পর কোকো পেনিকে বিশ্বাস করতে শুরু করলো। পেনি প্রায়ই কোকোকে কাঁধে নিয়ে অন্যান্য পশুপাখিদের দেখতে যেতেন।

শুরু হলো প্রজেক্ট কোকো-

১৯৭২ এ প্রজেক্ট কোকো শুরু হওয়ার পরপরই কোকোর প্রতিটি কাজকে পর্যবেক্ষণ করা হলো। ট্রেলারে ছিল বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পেনি তাকে যতগুলো সাইন শেখাতেন তা সবই লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। এসব ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করতেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু রন কন।

গুরুগম্ভীর মাইকেল; Image Source: pinterest.com

৫ বছর বয়সের ভিতর কোকো ৫০০টিরও বেশি সংকেত শিখে গেল। পেনি বলেন, “যতই সে সংকেত বা সাইন শিখতে শুরু করলো ততই যেন কোকোর ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেতে শুরু করলো”। 

বুশমিট বা বন্যপ্রাণী, যেমন গরিলা, বানর ইত্যাদির মাংসের জন্য বিশ্ববাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ফলে পশ্চিম আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এসব বন্য প্রাণীকে হত্যা করা হচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণীদের সংখ্যা কমে গিয়ে এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ছে আমাদের বনজঙ্গলগুলোতে।

কোকো ও মাইকেলের অন্যান্য শখ

কোকো ও মাইকেলের স্বভাবে কিছু আচরণ ছিল যা আমাদের গোরিলাদের ব্যাপারে থাকা ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা দুজনই ছিল কোমল স্বভাবের। তারা হাসতো, কাঁদত, অন্যের দুঃখে দুঃখবোধ করতো। নিজের চেয়ে আকারে বেশ ছোট প্রাণীদের প্রতি তাদের ছিল ভালোবাসা।

কোকো ততদিনে ১,০০০ এর মতো সংকেত শিখে ফেলেছে এবং ২,০০০ এর মতো মৌখিক ইংরেজি শব্দ সে চেনে। যখন তাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হয় তখন সে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে তার উত্তর দেয়। একবার একটি গল্পের বইয়ে বিড়ালের ছবি দেখে কোকোর বিড়াল পোষার ইচ্ছা হয়। পেনি তাকে একটি বিড়ালছানা এনে দেন যার নাম কোকো রাখে All Ball। কারণ সে দেখতে ছিল বলের মতো। কিন্তু ৬ মাস পড়েই এক সড়ক দুর্ঘটনায় All Ball মারা যায়।

কোকোর আঁকা একটি ফুলের তোড়া

কোকো এ ঘটনায় অত্যন্ত কষ্ট পায়। পেনি তার জন্য আরেকটি বিড়াল ছানা এনে দেন। এবারে ওর নাম হয় স্মোকি। কারণ এই বিড়াল ছিল ধূসরবর্ণের। বিড়াল পোষা ছাড়াও কোকো ও মাইকেলের শখ ছিল ছবি আঁকা। এমনকি তাদের চিত্রকর্ম নিয়ে নিউ ইয়র্কে একটি প্রদর্শনীও হয়েছে। কোকোর আরেকটি বড় শখ ছবি তোলা। ৭ বছর বয়সে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে কোকোর তোলা তার নিজের ছবি ছাপা হয়। অনেকটা আমাদের যুগের সেলফির মতো।

২০০০ সালে কোকোর সঙ্গী মাইকেল মারা গেলে কোকো মর্মাহত হয়ে পড়ে। তার সাথে দেখা করার জন্য তখন রবিন উইলিয়ামস, লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিওর মতো হলিউড অভিনেতারা আসতে থাকেন।

 

Facebook Comments
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top