ইতিহাস

গোপাল ভাড়ের ইতিহাস ও বিতর্ক

গোপাল ভাড়ের ইতিহাস মধ্যযুগে নদীয়া অঞ্চলে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের (১৭১১ থেকে ১৭৮৩) সভায় নবরত্নের একজন ছিলেন এই গোপাল ভাঁড়। এই কিংবদন্তী চরিত্রটিকে নাসিরুদ্দিন হোজ্জা, বীরবল বা দক্ষিণ ভারতের তেনালিরামার সমকক্ষ একটি চরিত্র হিসেবে ধরা যায়।

গোপাল ভাঁড় চরিত্রটি ঐতিহাসিক, গবেষক ও ভাষাবিদদের কাছে বিতর্কের বিষয় বহুকাল থেকে। গোপালের গল্পগুলি সমাজে চুড়ান্ত জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত হলেও গোপাল ভাঁড় বাস্তবে ছিলেন কিনা সে নিয়ে মতভেদ আছে। অনেকেই মনে করেন গোপাল ভাঁড় নামে কেউ নির্দিষ্ট করে ছিলেননা। তবে কোনো না কোনো বিদূষক রাজার প্রিয়পাত্র হন। সেরকম গোপাল নাম্নী নাপিত বংশীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন। গোপালের জন্ম কত বঙ্গাব্দে তা কোথাও লেখা নেই। তার জন্মস্থানের পক্ষেও কোনো নথি নেই, কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হিসেবে তার সম্পত্তির কিংবা জায়গা-জমির কোনো প্রমান পাওয়া যায় না। গোপালের বাবার নাম জানা গেলেও তার মা ও স্ত্রী সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। নগেন্দ্রনাথ দাসের মতে গোপালের পদবী ছিল ‘নাই’। মহারাজ তাকে হাস্যার্ণব উপাধী দান করেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদ সুকুমার সেন বলেছেন ‘গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে আধুনিক বাঙালির কৌতুহল থাকার ফলে বাস্তব অথবা কল্পিত ব্যক্তিটির সম্পর্কে যে জনশ্রুতি জাতীয় ঐতিহ্য গজিয়ে উঠেছে উঠছে তার বীজ হচ্ছে ভাঁড় নামের অংশটি, গোপাল ভাঁড়ের ভাঁড়টুকু সংস্কৃত শব্দ ভাণ্ডারেরভাণ্ড’-জাত মনে করে অনেক গোপালের জাতি নির্ণয় করেছেন‘। পক্ষের ও বিপক্ষের যুক্তি যাই হোক, গোপাল ভাঁড় বাঙালি রসিক ও লৌকিক সংস্কৃতিতে অমলিন হয়ে আছেন।

গোপাল ভাঁড়ের চরিত্র এত জনপ্রিয় হবার প্রথম কারণ তার হাস্য কৌতুক এবং দ্বিতীয় কারণ তার অকপট সত্যভাষণ।

Facebook Comments
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top