Blog71

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জীবনী সম্পর্কে জানুন। কেমন ছিল তার পুরো জীবন।

শেক্সপিয়ারের লেখা নাটকের আজও জগৎ জোড়া খ্যাতি। তিনি লিখতেন ইংরেজি ভাষায়। কিন্তু এতো ভাল যে নাটকগুলো, সেগুলো কেন অন্য ভাষার লোকজন পড়বে না? তাই পৃথিবীর নানা ভাষায় তার লেখা নাটক অনূদিত হয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষাতেও তার নাটক অনুবাদ হয়েছে। প্রথম তার নাটক অনুবাদ করেন কে জানেন? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনিও কিন্তু অনেক বড়ো মাপের মানুষ ছিলেন। তিনি শেক্সপিয়ারের নাটক ‘দ্য কমেডি অফ এরর্স’ নাটকের অনুবাদ করে নাম দেন ‘ভ্রান্তিবিলাস’। অনুবাদের নামটিও কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছিল, তাই না? পরে আরো অনেকেই তার নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম না বললেই নয় ‘মুনীর চৌধুরী’। তিনি শেক্সপিয়ারের ‘টেমিং অফ দ্য শ্রং’ নাটকের অনুবাদ করেন ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নামে।

শেক্সপিয়ারের ছেলেবেলাঃ
একাধারে নাট্যকার ও কবি শেক্সপিয়ার জন্মগ্রহণ করেন ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল। তবে তার জন্মদিন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন তিনি জন্ম নেন ২৩ এপ্রিল। তার বাবা জন শেক্সপিয়ার পেশায় ছিলেন উচ্চপদস্থ প্রশাসক, বেশ ধনীও ছিলেন। তার মা মেরি অ্যাডের্নও বেশ বড়ো ঘরের মেয়েই ছিলেন। আর এই দম্পত্তির আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়, ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো।

তার স্কুল জীবন নিয়ে বেশ মজার একটা গল্প চালু আছে। ছাত্র হিসেবে তিনি নাকি তেমন সুবিধের ছিলেন না। চেষ্টা করেও খুব একটা ভালো ফল করতে পারতেন না। বিরক্ত হয়ে একবার নাকি তার এক শিক্ষক বলেই দিয়েছিলেন, তোমার তো ভবিষ্যত একেবারেই অন্ধকার। তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আর পরে তিনি যে কী হয়েছিলেন, সে তো আপনারা এরমধ্যেই একটু একটু জেনে গেছেন।

শেক্সপিয়ার বিয়ে করেন ১৫৮২ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে। তার স্ত্রী অ্যানা হ্যাথওয়ে যে তারচেয়েও বয়সে আট বছরের বড়ো ছিলেন! পরের বছরেই তাদের প্রথম সন্তান হয়, নাম রাখেন সুসানা হ্যাল। আর ১৫৮৫ সালে হয় তাদের জমজ শিশু হ্যামলেট আর জুডিথ। বিয়ের পর আরো প্রায় পাঁচ সাত বছর তিনি স্ট্র্যাটফোর্ডেই বাস করেন। তবে এরই মধ্যে তিনি লন্ডনের প্রেমে পড়ে যান, বিশেষ করে লন্ডনের নাট্যদলগুলোর গল্প শুনে। এদিকে পরিবারের খরচপত্রও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। সব মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে এবার লন্ডনের পথেই পা বাড়াতে হবে। কাউকে কিছু না বলে পাড়ি জমালেন লন্ডনের পথে।

নাট্যকার শেক্সপিয়ারঃ
লন্ডনে গিয়ে তো তিনি নাটকে অভিনয় করতে শুরু করলেন। কিছুদিন পরে তিনি নাটকও লিখতে শুরু করলেন। ঠিক কবে তিনি নাটক লিখতে শুরু করেছিলেন? সেটা অবশ্য ঠিক ঠিক করে জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, ১৫৯১ সালের দিকে তিনি নাটক লিখতে শুরু করেন। আর খুব তাড়াতাড়িই তিনি নাটক লিখিয়ে হিসেবে, মানে নাট্যকার হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। শুধু তাই নয়, নাটক লিখে তার বেশ আয়ও হতে লাগল; এইবার তিনি আর্থিকভাবেও বেশ স্বচ্ছল হলেন। আর সেই টাকা দিয়ে তিনি নিজ শহর স্ট্র্যাটফোর্ডে বেশ কিছু জায়গাজমিও কিনলেন, তারপর সেখানে বাড়িও বানালেন। বাড়িটি এখনো অবিকল দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই। তিনি সম্ভবত ১৬১১ সাল পর্যন্ত নাটক লিখেছেন। আর তারপর একেবারে নাট্যজগত থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শেক্সপিয়ার দেখতে কেমন ছিলেন?
শেক্সপিয়ারের সব গল্পই তো হলো। কিন্তু তিনি দেখতে কেমন ছিলেন, সেটাই তো বলা হলো না! ভাবছেন, এতো দিনের পুরোনো একজন মানুষ, তার চেহারার বর্ণনা আমি কীভাবে দেব, তাই তো? আরে, জীবদ্দশাতেই যে নাট্যকার এতো বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন, তার কোন ছবি কোন শিল্পী আঁকবেন না, তাও কী হয়? তার একটা পোরট্রেইট তো লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্টফোলিও গ্যালারিতেই রাখা আছে। আর পৃথিবীজুড়ে তার যে কতো মূর্তি আছে।

শেক্সপিয়ারের যতো লেখাঃ
শেক্সপিয়ারের লেখা ৩৬টি নাটক নিয়ে ১৬২৩ সালে একটি বই প্রকাশিত হয়। তার বিখ্যাত কমেডি নাটকগুলোর মধ্যে আছে ‘অল’স ওয়েল দ্যাট এন্ডস্ ওয়েল’, ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’, ‘দি কমেডি অফ এরর্স’, ‘মেজার ফর মেজার’, ‘দি মার্চেন্ট অফ ভেনিস’, ‘এ মিড সামার নাইট’স ড্রিম’, ‘মাচ অ্যাডো অ্যাবাউট নাথিং’, ‘প্রাইসলেস, প্রিন্স অফ টায়ার’, ‘দি টেমিং অফ দি শ্রং’, ‘দি টেম্পেস্ট’, ইত্যাদি। তবে কমেডির চেয়ে বেশি বিখ্যাত তার ট্র্যাজেডিগুলো ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’, ‘জুলিয়াস সিজার’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘হ্যামলেট’, ‘কিং লিয়ার’, ‘ওথেলো’ ইত্যাদি। আর তার ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কিং জন’, ‘রিচার্ড টু’, ‘হেনরি ফাইভ’, ‘রিচার্ড থ্রি’, ‘হেনরি এইট’ ইত্যাদি।

মারা গেলেন পৃথিবীর সেরা নাট্যকারঃ
নাট্যজগতের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের শহরে ফিরে এলেন শেক্সপিয়ার। জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি কাটিয়ে দেন ছোট্ট এই শহরেই, নিজের বাড়িতে। পাঁচ বছরের মাথায়, ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি মারা যান। তাকে সমাহিত করা হয় জন্মভূমিতেই, অ্যাভনের একটি গির্জায়।

 

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.