আউটসোর্সিং

ফ্রি অ্যাপস ব্যবহার করে কীভাবে ডেভেলপাররা আয় করে থাকেন?

স্মার্টফোনের যুগে এখন আয় করটা একদম সহজ হয়েগেছে। যারা অ্যাপস ডেভেলপ করতে পারে তারা মাসে অনেক টাকা আয় করতে পারে।এখন সবার হাতে একটি করে স্মার্টফোন রয়েছে। প্লে-ষ্টোরে গিয়ে দেখা যায় অনেক ধরনের অ্যাপস এর সমারহ। রয়েছে খেলাধুলা, বিনোদন, টিপস ইত্যাদি অ্যাপস রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করে আয় করছে অনেকেই। তাহরে চলুন শুরু করা যাক।

ইন-অ্যাপ পার্চেজ

ইন-অ্যাপ পার্চেজ হলো একটি অ্যাপের মধ্যেই ভার্চুয়াল কোনো কিছু অর্থের মাধ্যমে কেনার ব্যবস্থা। ভার্চুয়াল সেই জিনিসগুলো হতে পারে কোনো বোনাস, প্রিমিয়াম সামগ্রী, গেমের গোল্ড/অর্থ/কারেন্সি, বিভিন্ন থিম/স্কিন/টুলস/ক্যারেক্টারের পোষাক এবং গেমের বিভিন্ন লেভেল আনলক করা ইত্যাদি।

পাবজি মোবাইলের ইন-অ্যাপ পারচেজ

ইন-অ্যাপ পার্চেজ প্রায় সব ধরনের ফ্রি গেইমসগুলোর মধ্যেই দেখা যায়। গেইম ডেভেলপারদের মূল আয়ের উৎসই হলো এই ইন-অ্যাপ পার্চেজ। যেমন জনপ্রিয় গেইম প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ড মোবাইল সংক্ষেপে ‘পাবজি মোবাইলে’ আপনি অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে গেম কারেন্সি বা আপনার ক্যারেক্টারের জন্য নিত্য নতুন পোষাক ক্রয় করতে পারবেন যা অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা রূপ প্রদান করবে। আরেকটি জনপ্রিয় গেইম ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানসে আপনি অর্থ ব্যয় করে এটির প্রিমিয়াম কারেন্সি ‘জেমস’ ক্রয় করতে পারবেন। এধরনের অন্যান্য ভার্চুয়াল কারেন্সির আরো নাম হয়ে থাকে। যেমন গোল্ড, কয়েন, ডলার ইত্যাদী।

ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান্সের ভার্চুয়াল জেমস কেনার পেজ

ইন-অ্যাপ পার্চেজের মাধ্যমে প্রচুর আয় করে থাকেন ডেভেলপাররা। ক্লাশ অফ ক্ল্যানের ডেভেলপার কোম্পানি সুপারসেল দিনে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছিলো শুধু তাদের ভার্চুয়াল কারেন্সি ‘জেমস’ বিক্রি করে। অন্যদিকে বর্তমানে পোকেমন গো ব্যবহারকারীরা দিনে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে থাকে শুধু এই ইন-অ্যাপ পার্চেজ পদ্ধতি ব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং হলো এখন পর্যন্ত ডেভেলপারদের টাকা আয় করার অন্যতম একটি উপায়। ১০টির মধ্যে ৭টি অ্যাপেই ডেভেলপাররা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন। আর সফটওয়্যারে বিজ্ঞাপন দেখানোর ব্যবস্থা করাটা নিতান্তই সহজসরল একটি উপায়। ডেভেলপারদের শুধু নিজের তৈরি অ্যাপটিতে যেকোনো কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন যুক্ত করে দিতে হয় এবং তা থেকে তারা প্রতিনিয়ত একটি বিশেষ পরিমাণে অর্থ পেতে থাকেন বিভিন্ন অ্যাড নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে।

ব্যানার অ্যাড

একটি রিপোর্ট থেকে বলা হয়েছে, শতকরা ৩২.৫% সফটওয়্যার নির্মাতারা অর্থ উপার্জনের প্রধান উৎস হিসেবে ‘ইন-অ্যাপ অ্যাড’ বা মোবাইল বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন। বিজ্ঞাপনটি যতবার দেখা হয় ততবার কিছু অর্থ পেয়ে থাকেন তারা। আর বিজ্ঞাপনে দেখানো কোনো অ্যাপ যদি ব্যবহারকারী ইন্সটল করেন তার ফোনটিতে, তাহলে সেখান থেকেও ডেভেলপারটি বিশেষ পরিমাণে অর্থ পান।

বর্তমানে ৪ প্রকারের বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে। সেগুলো হলো ইন্টারস্টিসিয়াল অ্যাডস, ব্যানার বা ডিসপ্লে অ্যাড, ইন-অ্যাপ ভিডিও অ্যাড এবং ন্যাটিভ অ্যাড।

ইন্টারস্টিসিয়াল অ্যাড বা কৌশলগত বিজ্ঞাপন হলো এমন ধরনের বিজ্ঞাপন যা কিছু সময় পর পর ব্যবহারকারীর পর্দায় এসে হাজির হয়। এবং তা পুরো পর্দা জুড়ে বিরাজ করে। ব্যবহারকারী সেই বিজ্ঞাপনে দেখানো বিষয়বস্তুতে ক্লিক করে বা বিজ্ঞাপনটির একদম উপরে ক্রস চিহ্নতে ক্লিক করে তা ফোনের স্ক্রিন থেকে দূর করতে পারেন।

ফুল স্ক্রিন বিজ্ঞাপন

এধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন মেসেজিং এবং কন্টেন্ট অ্যাপস যেমন বিভিন্ন গেইমসে। অর্থাৎ দেখা যায় গেইমের একটি বিশেষ লেভেল অতিক্রম করার পর এধরনের ইন্টারস্টিসিয়াল ফুলস্ক্রিন বিজ্ঞাপন হুট করে এসে হাজির হয়।

ডিসপ্লে বা ব্যানার অ্যাড হলো অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারে বিজ্ঞাপন যা মূলত দেখা যায় স্ক্রীনের একদম উপরে বা নিচে। আকারে ছোটো হওয়ায় এগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য কম বিরক্তিকর। তাই অ্যাপটির প্রধান কার্যক্রমে ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন কোনোরকমের বাধা ব্যতিরেকেই। তবে এধরনের ব্যানার অ্যাড থেকে অপেক্ষাকৃত কম অর্থ আসে। ইন্টারস্টিসিয়াল অ্যাড বেশ বিরক্তিকর হলেও সেখান থেকে ডেভেলপাররা ব্যানার অ্যাডের তুলনায় অনেক বেশি আয় করে থাকেন।

ইন-অ্যাপ ভিডিও

ইন-অ্যাপ ভিডিও বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের প্রক্রিয়া দেখা যায়। প্রথমক্ষেত্রে কিছু ভিডিও বিজ্ঞাপন আপনাআপনি চালু হয়ে যেতে দেখা যায় অ্যাপের মাঝেই। আর দ্বিতীয়ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইন-অ্যাপ রিওয়ার্ড হিসেবে বিভিন্ন ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখার ব্যবস্থা করে দেয়া থাকে। এগুলোকে বলা হয় রিওয়ার্ডেড ভিডিও। অর্থাৎ কোনো অ্যাপ বা গেইমের বিশেষ কোনো সুবিধা যেমন গেম কারেন্সি বা অতিরিক্ত জীবন বা বিভিন্ন আলাদা সুবিধা আনলক করতে হলে ব্যবহারকারীদের সেই ভিডিওগুলো দেখতে হয়। উভয় ব্যবহারকারী এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের জন্য এটি একটি লাভজনক পদ্ধতি। কারণ ভিডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেমন বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন তেমনি ডেভেলপাররাও সেই বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে অর্থ পেয়ে থাকছেন।

ন্যাটিভ অ্যাড হলো এমন একটি বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা যাকে আলাদা করে ডিজাইন করে অ্যাপের অন্যান্য ফাংশনের মধ্যেই যুক্ত করে দেয়া হয়। তাই এটিকে আলাদা কোনো বিজ্ঞাপন হিসেবে মনে হয়না। মূলত এধরনের বিজ্ঞাপনে থাকে স্পন্সরকৃত কন্টেন্ট বা ভিডিও যার মূল লক্ষ্যে থাকে কোনো পন্যের প্রচার। এধরনের বিজ্ঞাপন সবচেয়ে কম বিরক্তিকর এবং ব্যবহারকারী চাইলে বিজ্ঞাপনটি দেখতে পারেন বা একদমই এড়িয়ে যেতে পারেন।

blog71.com

Facebook Comments
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top