বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১২টি উপায়

আপনি কি কাজের চাপে প্রায়ই এটা সেটা ভুলে যাছ্চেন বা আপনার স্মৃতিশক্তি দুবর্ল হয়ে পড়েছে? এর পরিণাম কিন্তু হতে পারে ভয়ংকর।তাই বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জেনে নিন সতর্কতা এবং স্মৃতিশক্তিকে মজবুত করার কিছু উপায়।

 

১।পযার্প্ত ঘুম

রাতে ৬ ঘন্টার কম ঘুম হলে তা বাধর্ক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মস্তিষ্কে বাঁধার সৃষ্টি করে, জানান রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডি. মাইকেন মেডেরগার্ড। তিনি জানান,এর অন্য জরুরি হচ্ছে গভীর ঘুম। এটা না হলে মস্তিষ্ক প্রায় সাত বছর বেশি বুড়িয়ে যেতে পারে।

 

২।মস্তিষ্কের জন্য ঠান্ডা গরই ভালো

গরমের চেয়েও ঠান্ডায় স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ তিনগুণ বেশি থাকে। এ কথা জানান নিউ সাউথ ওয়েল্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলিয়ান মনোবিজ্ঞানী প্রফেসার ইয়োসফ ফোরগাস। এছাড়া ঠান্ড ঘর মাথাকেও ঠান্ড রাখে,তাই ঘরের তাপমাত্রা কখনো ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রাখা ঠিক নয়,জানান তিনি।

 

৩।গল্প শেষ থেকে শুরু করুণ

একটি গল্প পড়ে পুরো গল্পটা মনে রাখুন।এবার শুরু থেকে না বলে শেষ বা পেছন থেকে গল্পটা মনে করতে ধাকুন।এই পন্থা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সচল তো রাখবেই,করবে আরো শক্তিশালী।

 

৪।সঠিক জুতো পরে বেরিয়ে পড়ুন।

নিয়মিত হাঁটাচলা বা জগিং শরীরকে ভালো রাখে-এ কথা কম বেশি আমরা সকলেই জানি।সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মার্ক ম্যাকডানিয়েল জানান,শুধু শরীর নয় হাঁটাচলা এবং জগিং ব্রেনকেও ফিট রাখে।তবে সবচেয়ে ভালো হয় সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন অন্তত ২০ মিনিট করে হাঁটলে বা জগিং করলে।

 

৫।বিপরীত হাত ব্যবহারের অভ্যাস

যাঁরা ডান হাতে সব কিছু করেন, তারা বাঁ হাতে আর যাঁরা বাঁ হাতে সব কিছু করেন,তাঁরা ডান হাতে সপ্তাহে অন্তত একবার সব কাজ করার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ উল্টোহাতে খাওয়া-দাওয়া,দাঁতব্রাশ করা বা অন্যান্য টুকটাক ঘরের কাজ করার অভ্যাস করতে পারেন। এতেও ব্রেন সচল থাকে।

 

৬।বন্ধুত্ব লালন করুর

মানুষের সাথে কথাবার্তা বলা বা টেলিফোনে যোগাযোগ মস্তিষ্ককে তরুণ রাখে।এই তথ্যটি জানিয়েছেন এডিনবার্গ বিম্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট ড.স্টুয়ার্ট রিচি।তিনি বলেন,দিনে মাত্র ১০ মিনিটের যোগাযোগই নাকি মানুষের স্মৃতিশক্তিকে বেশ জোড়ালোভাবে জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে।

 

৭।প্রতিদিনের নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসুন

ব্রেনকে সব সময় নতুন কিছু শিখতে হয়।তা না হলে মস্তিষ্ক নির্জীব হয়ে যায়।তাই প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে অন্যকিছু করুন। মাঝে মাঝে অন্য রাস্তা দিয়ে কমর্স্থলে বা কলেজে যান। নতুন কোনো ভাষা বা যন্ত্র বাজানো শিখুন। এতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি শতকরা ৭৫ ভাগ কমে যায়। নিউ ইর্য়কের আলবার্ট আইনস্টইন মেডিকেল কলেজের করা এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

 

৮।পায়ের আঙুলের ম্যাসেজ

প্রতিদিন পাঁচ মিনিট করে পায়ের আঙুল ম্যাসেজ করুন।প্রথমে আঙুলের ওপর থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে টিপে টিপে নিচের দিকে যান।এই ম্যাসেজ মস্তিষ্কের কোষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন সহায়তা করে।

 

৯।শপিং লিস্ট

বাজারে বা দোকানে যাওয়ার আগে কী কী কিনবেন তার একটি লিস্ট তৈরি করে নিন এবং ইচ্ছে করেই সেটা বাড়িতে রেখে শপিংয়ে চলে যান। ফিরে এস দেখুন ক’টা ভুলে গেছেন আর ক’টা মনে রাখতে পেরেছেন।এই নিয়ম যত বেশি করা হবে,ব্রেন তত দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে সেভ করে রাখতে পারবে তথ্যগুলো।

 

১০। দুই কাপ কফিই যথেষ্ট

দিনে দুই কাপ কফি পান করলে আৎ সহাইমার ঝুঁকি কমে শতকরা ২০ ভাগ ।একটি সমীক্ষার ফলাফল থেকে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ডিমেনশিয়ার পর্তুগিজ গবেষক ড. কাটারিনা সান্তোস। কারণ কফি পান তিরিশের বেশি বয়সিদের মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে বুড়েয়ে যাওয়া থেকে অনেকটাই রোধ করে,বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে।

 

১১।রুটিন চেকআপ

হৃদপিন্ডের নানারকম অসুখের ঝুঁকির কারণেও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই বছরে একবার রক্তচাপ,ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টোরলের মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত।

 

 

 

১২।মস্তিষ্কের খাবার

আখরোটের’পলিফেনল’ব্রেনের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে দেয়।তাছাড়াও সামুদ্রিক মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অসিড,পালং শাক,ডার্ক চললেট,গ্রিন টি,অলিভ অয়েল,শাক-সবজি ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই জরুরী।

 

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোষ্টটি এখানে শেষ করছি।

Facebook Comments
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top