Blog71

জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপগুলো জেনেনিন এবং অন্যকে জানান।

কেমন আছেন সবাই? আসাকরি ভালো আছেন। আমি আপনাদের জন্য শেয়ার করব জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপগুলো। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ম্যাসেজিং অ্যাপ। কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে যেমন- টেক্সট ম্যাসেজ, ভয়েস কল, ভিডিও কল, ছবি পাঠানো ইত্যাদি। জেনে নিই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু ম্যাসেজিং অ্যাপ সম্পর্কে।

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার

ম্যাসেঞ্জার (Messenger) হচ্ছে ফেসবুক চ্যাটেরই একটি সংস্করণ। টেক্সট ম্যাসেজ, হাই কোয়ালিটির অডিও-ভিডিও কল এবং বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করা যায়। কারো ফোন নাম্বার জানা না থাকলেও শুধুমাত্র তার ফেসবুক ব্যবহার করেই তাকে সরাসরি কল করা যায়।অ্যাপটির ‘ফ্লোটিং চ্যাটহেড‘ ব্যবহার করে অন্য যেকোনো কাজ করার ফাঁকে ফাঁকেও ম্যাসেজ আদান-প্রদান করা যায়। অ্যাপটি ব্যবহার করে অন্তত ৭০ কোটি ব্যবহারকারী। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কম ক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল ফোনে ব্যবহার উপযোগী। অ্যাপটির প্রায় সব ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী সংস্করণ আছে।

হোয়াটসঅ্যাপ

টেক্সট ম্যাসেজ আদান প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরী একটি অ্যাপ, যা শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড থাকলেই চালু করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক এই অ্যাপটি ২০০৯ সালে চালু হলেও পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ফেসবুক এটিকে ১৯.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়। ১০০ কোটি মানুষ এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ কোটি বার্তা আদান-প্রদান করে। টেক্সট ম্যাসেজের পাশাপাশি, সরাসরি ভিডিও কল করা, ছবি, ভিডিও, রেকর্ড করা অডিও বার্তা আদান-প্রদান করা যায়। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে এটি ব্যবহার করা যায়।

ভাইবার

ভাইবার সম্পূর্ণ ফ্রি একটি অ্যাপ। ২০১০ সালে ইসরায়েল ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম এই অ্যাপটি তৈরি করে। তবে পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জাপান ভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি রাকুতেন (Rakuten) এটি কিনে নেয়। অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, উইন্ডোজ ফোন সহ পিসি থেকেও এটি ব্যবহার করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপের মতোই ভাইবারও (Viber) একটি ফ্রি ম্যাসেজিং এবং ভিওআইপি অ্যাপ, যা মোবাইল ফোন নাম্বারের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। প্রতিমাসে অন্তত ২৬ কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করে। এর মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। টেক্সট ম্যাসেজ, ছবি, রেকর্ড করা অডিও পাঠানো যায়। হাই কোয়ালিটি অডিও এবং ভিডিও কলের জন্যই বেশি জনপ্রিয়।

টেলিগ্রাম

এতে ছবি, অডিও, ভিডিও সহ যেকোনো ধরনের ফাইল আদান-প্রদান করা যায়। এটি একটি ক্লাউডভিত্তিক ম্যাসেজিং অ্যাপ, যেখানে তথ্যগুলো ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে এবং সেখান থেকে ব্যবহারকারীর যেকোনো ডিভাইসে লোড হতে পারে। ০১৩ সালে চালু হওয়া অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং বছরে ৫০% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ম্যাসেজিং জগতে টেলিগ্রাম (Telegram) অনেকটাই নতুন।

স্কাইপ

২০০৩ সালে অ্যাপটি প্রথম কম্পিউটার সফটওয়্যার হিসেবে চালু হয়। সুইডেন এবং ডেনমার্কের দুজন উদ্যোক্তা প্রথমে সফটওয়্যারটি নির্মাণ করেন। স্কাইপ (Skype) প্রধানত ভিডিও কলিং এর জন্যই বেশি জনপ্রিয়। পিসি, ল্যাপটপ, অ্যান্ড্রয়েড, আইফোনসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে এটি ব্যবহার করা যায়। ২০০৫ সালে ই-বে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এবং ২০১১ সালে মাইক্রোসফট ৮.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এটি কিনে নেয়।

লাইন

২০১১ সালে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক এই অ্যাপটি প্রথম চালু হয়। লাইন (Line) অ্যাপটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় একটি ম্যাসেজিং এবং ভয়েস ও ভিডিও কলিং অ্যাপ। ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬০ কোটির বেশি, তবে নিয়মিত মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। ফেসবুকের মতো একটি টাইমলাইন আছে, যেখানে পোস্ট করা যায় এবং পোস্টের নিচে কমেন্টও করা যায়। জাপান ছাড়াও তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ব্ল্যাকবেরি ম্যাসেঞ্জার

এটি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ, যেখানে প্রায় ৮৭.৫% ফোন ব্যবহারকারীই এই অ্যাপটি ব্যবহার করে। ২০০৫ সালে চালু হওয়া ব্ল্যাকবেরি ম্যাসেঞ্জার (Blackberry Messenger) বা সংক্ষেপে BBM হোয়াটসঅ্যাপ চালুর পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ২০১৩ সাল থেকে এর অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন সংস্করণ চালু করা হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি। টেক্সট ম্যাসেজ, ভয়েস ও ভিডিও কল, ছবি ও ভিডিও পাঠানো ছাড়াও ব্ল্যাকবেরি ম্যাসেঞ্জার এর বেশ কিছু অনন্য নিরাপদ ম্যাসেজিং সুবিধার জন্য বিখ্যাত।

আরও জানুন

 

Advertisements

আমিন

1 comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.