ব্লগ একাত্তর-

ওয়াসিম আকরাম একজন নৈপূর্ণ বামহাতি বলার

পাকিস্থানে এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে ওয়াসিম আকরামের জন্ম।ওয়াসিম আকরামের বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। উনার বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে উচ্চ শিক্ষিত হোক। লাহোরের ভালো একটি স্কুলে তিনি লেখাপড়া করতেন। তবে একটি বিষয় শুনলে আপনি আশ্চর্য  হয়ে যাবেন, সেটি হচ্ছে, ওয়াসিম আকরাম ভালো টেবিল টেনিস লেখত। তার দাদার ছিলেন খুব ক্রিকেট প্রেমিক।ওয়াসিম আকরামের বয়স যখন দশ বছর তখন থেকেই তার দাদার কাছেই থাকনে। তার ক্রিকেট জগতে আসার পিছনে তার দাদার একটি বড় অবদান রয়েছেন। ওয়াসিম আকরামের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার দাদার কাছ থেকেই। একটি সময় তিনি ক্লাবে ভর্তি হন এবং ক্লাবে খেলতে থাকেন। ওয়াসিম আকরাম কিন্তু প্রথমেই ক্লাবের একাদশে সুযোগ পাননি।

লাহোরে এক ক্রিকেট আয়োজিত বোলিং অডিশনে যান। সব থেকে মজার ব্যপার হচ্ছে ওয়াসিম আকরাম কিন্তু প্রথম দুই দিন বলিং করার কোন সুযোগ পাননি। তিন দিনের মাথায় নির্বাচক হাবিব আহসানের চোখে পরেন। এই হাবিব আহসান পাকিস্থানের পক্ষে ১৩টি টেষ্ট খেলেছিলেন। ওয়াসিম আকরামের বলিং প্র্যাকটিস থেকে পাকিস্থানের সাবেক অধিনায়ক জাবেদ মিঁয়াদাদ জাতীয় দলে নেয়ার ব্যপারে রাজি হন। পাকিস্থানের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই নিউজিল্যান্ড সফরে যান। তার ক্যারিয়ার জীবনের প্রথম টেস্ট লেখায় দুইটি উইকেট পান, কিন্তু তার দল হারে ইনিং ব্যবধানে। দ্বিতীয় টেষ্টে তিনি তার আসল ভেলকি দেখান, দ্বিয়ীয় টেষ্টের দুই ইনিংসে উইকেট পান ৫টি। এক ম্যাচে দশ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড গড়েন এবং সব থেকে কম বয়সী বলার হিসাবেও রেকর্ড গড়েন। পরবর্তী বলার এনামুল হক জুনিয়র পরবর্তী রেকর্ড ভাঙ্গে ফেলেন।

পরবর্তীতে তিনি অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫টি উইকেট পেয়ে যান। ফাষ্ট বোলারদের আসল অস্ত্র হচ্ছে গতি। তিনি গতির সাতে সুইং, বাউন্স, ইয়র্কার ইত্যাদি দিতেন।

ওয়াসিম আকরামের বৈচিত্র্যের জন্যই বাকি বোলাদের থেকে একটু আলাদা ছিলেন। সব সব থেকে মজার ব্যপার হচ্ছ, তিনি ছয়টা বল ছয় রকমের করতে পারতেন।স্লোয়ার কিংবা সুইং ছিল তার আসল মন্ত্র। পুরানো বলে রিভার্স সুইজ করা ছিল একটি আশ্চর্য ক্ষমতা।স্লগ ওভারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বোলারও ছিলেন ওয়াসিম।

বলার হিসাবে ওয়াসিশ আকরাম কেমন ছিলেন?

ওয়াসিম খেলেছেন এমন ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচে শচীন করেছেন ৫৭২ রান, গড় ২৭.২৩, স্ট্রাইক রেট ৬৫.৫৯। অন্যদিকে ওয়াসিমবিহীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৪৩টি ইনিংসে রান করেছেন ১৯৫৪, গড় ৪৬.৪২, স্ট্রাইক রেট ৯৮.০৯।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ফাইলের ফাইনাল জেতার মূল অস্ত্র ছিল ওয়াসিম আকরামের বল। পাকিস্থান মাত্র ২৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেন।পাকিস্থান অল্প রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার আশংকায় পরে যায়। সেই আমলে ফাইনাল ম্যাচে যদি ২৩০ রান স্কোর না হলে সেটাকে নিরাপদ বলা যায় না। রানের যে গতি ছিল তাতে ২১৫ রানের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল। ইমরান খান যখন আউট হন তখন তার পরে নামার কথা ছিল ইজাজ খানের অথচ তখন নামিয়ে দিল ওয়াসিম আকরামকে।কিন্তু সেই বিশ্বকাপে ৭ ইনিংসে রান ছিল ২৯ রান মাত্র। কিন্তু ঘটে গেল এক আচর‌্য ব্যাপার, ওয়াসিম আকরাম রান করে ফেললেন ৩৩ রান তাও আবার মাত্র ১৯ বলে। ৩৩ রানের মধ্যে বাউন্ডারি ছিল চারটি। সর্বশেষ পাকিস্থানের রানের স্কোর হয়ে গেল ২৪৯ রান। এই রানের তারা করতে ইংল্যান্ড এর কোন ব্যপার ছিল না। ইংল্যান্ডের রানা খাতা খোলার আগেই ওপেনার ইয়ান বোথামকে আউট করেন তরুন পেস বলার ওয়াসিম আকরাম। ইংল্যান্ডকে প্রথমেই বড় একটি চাপের মধ্যে ফেলে দিলেন তিনি। ইয়ান বোথাম যখন আউট হন তখন তাদের রান মাত্র ৬। এর পর আরও ৪টি উইকেট হারান ৬৯ রানের মধ্যে। রানের একটা জুটি দ্বার করিয়ে ফেলছিল ইংল্যান্ড। সেই জুটিট ভেঙ্গে দিল ওয়াসিম আকরাম। শেষ পর্যন্ত ২২৭ রানে অল আউট হয়ে ২২ রানের হার মেনে নেয় ইংল্যান্ড। সেই টুর্নামেন্টে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন ওয়াসিম আকরাম। সাথে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেন।

ভালো লাগলে নিয়োমিত ভিজিট করুন ব্লগ একাত্তর সাইটে।

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.