ব্লগ একাত্তর-

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? কিভাবে করবেন?

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট থেকে আয় করা যায় এমন কীওয়ার্ড গুগলে সার্চ করলেই পাওয়া যায়। আসলে অ্যাফিলিয়েট করতে হলে প্রয়োজন সঠিক গাইড এবং ধরর‌্য। আপনি প্রথমত প্রাথমিক ধারণা নিন এরপর ভালো একটি ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রিয় ব্লগ একাত্তর এর টিউনার এবং ভিজিটরগণ আসুন আমরা এখন দেখে নেই কিভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হয়। আমাদের মুল বিষয় হচ্ছে,  এই অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে সফল হওয়া। কতটাকা আয় করলাম এটা বড় কথা নয়, সফলতাটাই বড় কথা।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যামাজন ডট কম ইউএসএর একটি বিখ্যাত অনলাইন শপিং কোম্পানি বা ইকমার্স কোম্পানি। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৃহৎ অনলাইন স্টোর। আমাজন সুযোগ দিয়েছে তাদের এসোসিয়েট হয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার। অর্থাৎ আমাজনের ওয়েবসাইট থেকে আপনি যদি প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন তাহলে আমাজন আপনাকে প্রোডাক্ট ভেদে বিভিন্ন রেটে কমিশন দেবে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে অনলাইনে। এটিই আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং।

কেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন ?

কেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সেটি আপনার নিজস্ব ব্যাপার। তবে এটি অনলাইনে আয়ের একটি মাধ্যম। অনলাইনে আয়ের অনেক মাধ্যম রয়েছে। এরমধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যতম একটি উপায়। বিস্তারিত জেনে যদি আপনার ভালো লাগে এবং করতে পারবেন বলে মনে হয় তাহলে অবশ্যই করবেন। তবে এটি ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় আপনি যদি আমাজনের টার্মস এন্ড কন্ডিশন মেনে কাজ করতে পারেন তাহলে আপনার ইনকামের টাকা নিশ্চিত পেয়ে যাবেন। অ্যামাজন একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান তাই কোনোভাবে প্রতারণার স্বীকার হতে হবেনা এবং কোনো টাকাও আমাজনে ইনভেস্ট করতে হবেনা।

অ্যামাজন ছাড়া আর কোনো এফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়না?

অবশ্যই যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের অনেক উপায় আছে অনলাইনে। সবগুলো সম্পর্কে আমার নিজের অভিজ্ঞতা নেই তাই বিস্তারিত বলতে পারবোনা। তবে eBay, Walmart, Aliexpress এগুলোও জনপ্রিয়, বিশ্বস্ত ইকমার্স ওয়েবসাইট এবং এদেরও এফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। সারা বিশ্বজুড়েই এরা পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। eBay এবং Walmart সম্পর্কে বলতে পারি এদের সাথে কাজ শুরু করতে হলে প্রথমেই আপনার খুব ভালো মানের একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকতে হবে অর্থাৎ প্রথম থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে শুরু করতে হবে। আর Aliexpress চীনের কোম্পানি। এদের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি রাশিয়া, ব্রাজিল, স্পেনে। অর্থাৎ আলী এক্সপ্রেসে ভালো সেল করতে হলে আপনাকে এইসব দেশের ভিজিটরদের টার্গেট করে অনলাইন মার্কেটিং করতে হবে।

নতুনদের জন্য কোনটি ভালো হবে?

আমি নিজে একেবারে শূন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেছিলাম এবং অল্প সময়েই সাফল্য আসতে শুরু করেছিলো। তাই আমি নিজে ব্যাক্তিগতভাবে বলবো নতুনদের জন্য আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিংই সবচেয়ে ভালো হবে। আমাজনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রথমেই নিজস্ব ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করা বাধ্যতামূলক নয়। ফ্রী সাবডোমেইন দিয়ে অনায়াসেই শুরু করা যায়। অর্থাৎ শুরুতেই ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই। শেখা এবং কাজ করা দুটোই একসাথে পাশাপাশি করার সুযোগ আছে এবং সেল করাও তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শুরু থেকেই অল্প করে হলেও ইনকাম করা যায়! মোটামুটি অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর চাইলে নিজস্ব ওয়েবসাইট নিয়ে একই ওয়েবসাইটে আমাজনের পাশাপাশি eBay, Walmart এদের এফিলিয়েট মার্কেটিংও করা যায় এবং এতে কোনো সমস্যা হয়না।

কি কি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন অ্যামাজন ?

বিভিন্ন ক্যাটাগরির লক্ষ লক্ষ প্রোডাক্ট আছে আমাজনের। নিজেই Amazon website থেকে দেখে নিন। আমাজনের প্রোডাক্ট সেল করবেন অথচ দেখবেন না কি আছে আমাজনের স্টকে তাও কি হয়? তবে এরমধ্যে হাতে গোনা কিছু প্রোডাক্ট আছে যেগুলো এফিলিয়েট প্রোগ্রামের আওতার বাইরে অর্থাৎ এই প্রোডাক্টগুলো সেল করলে কোনো কমিশন পাবেননা। কিন্তু এ ধরনের প্রোডাক্টের সংখ্যা সীমিত আর এ প্রোডাক্টগুলোর লিংকে ঢুকলেই আমাজন তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবে। তাই এ নিয়ে টেনশনের কিছু নেই।
যারা একেবারেই নতুন তারা হয়তো মনে করতে পারেন Amazon এর ওয়েবসাইটটিতে একটি একাউন্ট করলেই আপনারAmazon affiliate একাউন্ট হয়ে যাবে এবং product sell করা শুরু করতে পারবেন! কিন্তু বাস্তবে তা নয়। উপরে Amazon এর যে ওয়েবসাইট লিংকটি দেয়া হয়েছে সেটি শুধু Amazon থেকে পণ্য ক্রয় করার জন্য, বিক্রয় করার জন্য নয়। Amazon affiliate marketing করার জন্য আপনাকে Amazon associate পেজে sign up করতে হবে। step by step সবকিছু বর্ণনা করা হবে ।

কিভাবে অ্যামাজন থেকে পেমেন্ট পাবেন?

যেহেতু অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে এটি প্রাথমিক আলোচনা তাই যারা এটি পড়বেন এবং যারা নতুন তাদের মনে এই প্রশ্নটি আসবেই! বিশেষ করে যেহেতু আপনি বাংলাদেশ থেকে কাজ করবেন এবং কোম্পানি আমেরিকার তাই পেমেন্ট পাওয়ার সহজ উপায় কি এটি নিশ্চয়ই আপনার জানার আগ্রহ হবে এবং এটিই স্বাভাবিক। আর কাজ শুরুর আগে এই প্রাথমিক বিষয়গুলো পরিস্কার না জেনে না বুঝে কাজ করাও উচিত হবেনা। অথচ এই সাধারণ বিষয়গুলো নিয়েও আপনি বাংলা টিউটোরিয়ালগুলোতে পরিস্কার ধারণা পাবেননা। আমাকে জানতে হয়েছে কাজ করতে করতে। অনেক খুঁজে খুঁজেই সবকিছু জানতে হয়েছে।

তাই আমি চাই সব প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাতে আপনাদের কাজ করতে সহজ হয় এবং সময় ও শ্রমের অপচয় না হয়! আমাজন দুইভাবে পেমেন্ট দিয়ে থাকে। চেকের মাধ্যমে এবং সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে। চেক সারা বিশ্বের যে কোনো ঠিকানায় পাঠানো হয়। তবে চেকের মাধ্যমে নিলে ব্যালেন্স থাকতে হবে কমপক্ষে $100। এর চেয়ে কম টাকা চেকের মাধ্যমে পাবেননা। আর একটি অপশন হলো ব্যাংক ট্রান্সফার। কিন্ত অ্যামাজন শুধু আমেরিকার ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে থাকে। আপনার কি আমেরিকার কোনো ব্যাংকে একাউন্ট আছে? প্রায় সবাই বলবেন না নেই। কিন্তু তাতে ঘাবড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই! খুব সহজ সমাধান আছে। Payoneer একাউন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি বাংলাদেশ থেকেও বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন। অনলাইনে Payoneer account করা খুবই সোজা এবং এরজন্য কোনো বাড়তি টাকাও খরচ হবেনা।

আর ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা তোলার সবচেয়ে ভালো দিক হলো মাত্র $10 ব্যালেন্স জমলেই আপনি টাকা পেয়ে যাবেন যেখানে আগেই বলেছি চেকের মাধ্যমে টাকা নিলে ব্যালেন্স থাকতে হবে কমপক্ষে $100! কিভাবে Payoneer একাউন্ট করবেন এবং তা অ্যামাজন এসোসিয়েট একাউন্টের সাথে যোগ করবেন এই বিষয়ে আগামীতে অন্য একটি টিউটোরিয়ালে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। পেমেন্ট নিয়ে আরো কিছু বিষয়ে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে কাজ শুরুর পূর্বে। না হলে এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা আসতে পারে মনে। আপনার আমাজনের একাউন্টে ব্যালেন্স জমার পর টাকা তোলার জন্য আপনাকে কোনো রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবেনা বা ক্লেম করতে হবেনা।

আপনার মিনিমাম উইথড্রো এমাউন্ট যা ফিক্সড করে দেবেন সেই পরিমাণ ডলার আপনার একাউন্টে থাকলে অ্যামাজন অটোমেটিক মাসের ১/২ তারিখে তা পাঠিয়ে দেবে এবং ইমেইল করে জানিয়ে দেবে। তবে এরমাঝে একটি কিন্তু আছে! বিষয়টি পরিস্কার করেই বলি। মনে করুন আপনি আজকে আমাজনের একটি প্রোডাক্ট সেল করলেন। সাথে সাথেই কমিশন পাবেননা। কমিশন পাবেন প্রোডাক্টটি কাস্টোমারের কাছে শিপমেন্ট হওয়ার পর বা পৌঁছানোর পর। এরপরও আপনার এই ব্যালেন্স চূড়ান্ত হবেনা। কারণ আমাজনের পলিসি অনুযায়ী উক্ত কাস্টমার প্রোডাক্ট পেয়ে সন্তুষ্ট না হলে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় পাবে প্রোডাক্টটি ফেরত পাঠানোর। সে যদি প্রোডাক্টটি ফেরত পাঠায় তাহলে আপনার অর্জিত কমিশনটিও ব্যালেন্স থেকে মাইনাস হয়ে যাবে! এজন্য অ্যামাজন, এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের পেমেন্ট পাঠায় কমিশন আয় করার দুই মাস পর! অর্থাৎ ধরুন আপনি পুরো জানুয়ারী মাসে যে কমিশন আয় করবেন তার পেমেন্ট পাবেন মার্চের ১/২ তারিখে।

পোষ্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে নিয়োমিত ভিজিট করুন টেক বাংলা ব্লগ সাইটে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এই কামনায় আমি আমার পোষ্টটি শেষ করছি।  আর এমন আরও ভালো ভালো পোষ্ট পেতে আমার সাথে থাকুন।

Advertisements
mm

Rony

যা জানি তা জানাতে চাই ☺

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.