ব্লগ একাত্তর-

ধর্ষকের রায় ফাঁসি কিন্তু কার্যকর হয় নাই।

প্রতিদিন সংবাদে কিছু না ধর্ষক হয়েছে এই সংবাদটি পেয়ে থাকি। সংবিধানে কিন্তু ধর্ষনের সর্বচ্চ শাস্তি রয়েছে মৃত্যুদন্ড। কিন্তু তা কি হয়েছে? ঠিকই কয়েকমাস পর ধর্ষক আবারও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আসুন আমরা কিছু তালিকা দেখি আলোচিত ধর্ষকদের অবস্থান।

১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসরঘর সাজিয়ে প্রতিরাতে একজন ছাত্রীকে ধর্ষন করা হতো,
এভাবে একশত ধর্ষন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে
মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছিলো ক্ষমতাসীন
দলের সোনার ছেলে “জসিমউদদীন মানিক” এরও
একটা বিচার হয়েছিলো, তবে ফাঁসি হয় নি।
.
দিবালোকে রামদা দিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে খাদিজাকে
কুপিয়ে তার মাথা কয়েকভাগ করে সিলেটের বদরুল,
খাজিদার ভাগ্যভালো মরতে মরতে বেঁচে গেছে।
বদরুলেরও একটা বিচার হয়ছে, তবে খুব বেশি হয় নি।
.
২০১৮ সালে বরিশালের বানারিপাড়ায় মা-মেয়েকে
একসাথে ধর্ষন করে মাথা নেড়ি করে দেয় প্রভাবশালী
তুফান, তুফানেরও একটা বিচার হয়ছে, তবে ফাঁসি
হয় নি।
.
সংরক্ষিত এলাকা কুমিল্লা ক্যান্টেরমেন্ট এর ভিতরে
তনুকে ধর্ষন করার পর হত্যা করা হয়, কে বা কারা
জড়িত তা কিন্তু গুয়েন্দা বাহিনী ভালো করেই জানে,
কিন্তু তনুর ধর্ষনকারী কেউ গ্রেফতার হয় নি,
.
৩১শে ডিসেম্বর ২০১৮ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দিনের
বেলা যুবতি মেয়ের সামনে তার মাকে দলবেঁধে ধর্ষণ
করার পর প্রহার করা হয়, ১৭ কোটি মানুষ এর সাক্ষী,
ধর্ষক রুহুল আমীনের ফাঁসির দাবি উঠলেও,
ফাঁসি কিন্তু হয় নি।
.
কিছুদিন আগে ঢাকার এক আবাসিক এলাকায়
৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরুদ্ধ করে
হত্যা করা হয়, ধর্ষক আটক, তবে তারও কিন্তু ফাঁসি
হবে না।
.
গত কয়েকবছর আগে দেখলাম ৩ বছরের শিশুর
যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়,
সেই ধর্ষকও গ্রেফতার হয়ছে, তবে ফাঁসি কিন্তু হয় নি।
.
এভাবে আরো কতো ধর্ষণ হচ্ছে মা বোনেরা তার
হিসাব রাখে কে? ধর্ষকরা জেলে যায় ঠিকিই,
কিন্তু ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে আবার বেরিয়ে আসে।

কুমিলার নাঙ্গলকোটে তালাকপ্রাপ্ত এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষক নুরুজ্জামান রাজু উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউপির মেরকট গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় দু’জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ১২/০৪/২০১৯ রাতে নুরুজ্জামান ধর্ষিতার ঘরে প্রবেশ করে গলা চেপে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার চিৎকারে তার ভগ্নিপতি সাফায়েত হোসেন ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে লম্পট নুরুজ্জামান পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ওই লম্পটকে দিগম্বর অবস্থায় আটক করে ওই গ্রামের জীবন কৃষ্ণ বাবুর মাছের ঘরে তালা বন্ধ করে রাখে। রাতের কোনো এক সময় লোকজনের চলে যাওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে ওই লম্পট ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়।

.
আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই সবাই, কিন্তু দেশে কি সেই
আইন আছে?
ধর্ষকের শাস্তি জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড মাত্র তিন চারটা দিয়ে দেখুন, ধর্ষনতো দূরের কথা, কোনো মায়ের দিকে
চোখ তোলে থাকানোর সাহস পাবে না,,,
যারাই আমার এই লিখাটা পাবেন শেয়ার এবং কমেন্ট করবেন।
দেশের আইন যদিও সতর্ক না হয়, আমাদের
বোনদের চোখে পরলেও অন্তত চেষ্টা করুক সতর্ক ভাবে চলার।
সাথেই থাকুন এগিয়ে চলুন এবং গর্জন তুলুন।

Advertisements

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.