ব্লগ একাত্তর-

মাথা ব্যথা করে সকাল হলেই , ব্রেন টিউমারের লক্ষণ নয়তো?

টিউমার যখন আমাদের মাথার ভেতরে অবস্থান করে তখন তাকে ব্রেন টিউমার বলা হয়। ব্রেন টিউমার থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। যখন মাথায় এই টিউমার বৃদ্ধি পায় তখন মস্তিষ্কের ভেতরে চাপ বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তাই সঠিক সময়ে ব্রেন টিউমার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তবে তার আগে জেনে নিন ব্রেন টিউমার কি, এটি কেন হয়, এর লক্ষণগুলো কী কী এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কে-

ব্রেন টিউমার কি?
ব্রেন টিউমার মস্তিষ্কে কোষের সংগ্রহ। যখন কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায় তখন ব্রেন টিউমার সৃষ্টি হয়। ব্রেন টিউমার দুই ধরণের হয় যেমন-

> প্রথমটি ক্যান্সারযুক্ত অর্থাৎ ম্যালিগন্যান্ট।

> আরেকটি ক্যান্সারহীন অর্থাৎ বিনাইন।

ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমার বৃদ্ধি পেলে তা মস্তিষ্কের ভিতরে চাপ বাড়িয়ে তোলে। এটা আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ব্রেন টিউমার হওয়ার কারণ
টিউমার বিভিন্ন কারণের জন্য হতে পারে। ব্রেন টিউমার তখনি হয় যখন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কোষগুলোর ডিএনএ তে কোনো ত্রুটি থাকে। শরীরের কোষগুলো ক্রমাগত বিভক্ত হয়ে যায় এবং মরে যায়। যার পরিবর্তে অন্য কোষ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে যায় তবে দেখা যায় পুরনো কোষগুলো সম্পূর্ণভাবে বিন্যাস হয় না। যার ফলে এই কোষগুলো জমাট বেঁধে টিউমার হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আবার অনেক সময় বংশগত কারণে ব্রেন টিউমার হয়ে থাকে। অর্থাৎ বাবা, মা বা আত্মীয় কারো ব্রেন টিউমার থাকলে। তবে সঠিক সময়ে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করালে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ
ব্রেন টিউমারের আকার, অবস্থান এবং উচ্চতার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। চলুন তবে ব্রেন টিউমারের লক্ষণগুলো জেনে নেয়া যাক-

১. মাথা ব্যথা প্রায় সবার কম-বেশি হয়ে থাকে। তবে সব ধরণের ব্যথা টিউমারের লক্ষণ নয়। ব্রেন টিউমার হলে তীব্র মাথা ব্যথা হয় এবং তা সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এই ধরণের মাথা ব্যথা টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ। ব্রেন টিউমারের মাথা ব্যথা সাধারণত সকালের দিকে হয় এবং পরে তা ক্রমাগত হতে থাকে। এছাড়াও রাতে শোয়ার সময় পর্যন্ত ব্যথা থাকে।

২. কোনো কারণ ছাড়া বমি হওয়া এবং তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।

৩. কথা বলতে অথবা শুনতে সমস্যা হয়।

৪. ব্রেন টিউমার হলে মাথা ঘোরায়, যার ফলে পরে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এসময় রোগী শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না এবং পড়ে যায়।

৫. ব্যক্তির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়।

৬. ভুলে যাওয়া ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়।

৭. ঘন ঘন রেডিয়েশন অথবা এক্স-রে নেয়া হলে এই রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টিউমার রোগের লক্ষণ তাহলে নিশ্চয়ই কিছুটা বুঝতে পারলেন। এইধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। লক্ষণ তো আমরা দেখলাম, এবার আমরা জানবো ব্রেন টিউমার চিকিৎসা সম্পর্কে।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা
ব্রেন টিউমার চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং ধরণের উপর। যেমন, ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের সাধারণ চিকিৎসা হল সার্জারি। এটি ব্রেনের কোনো অংশ ক্ষতি না করে ক্যান্সার অপসারণে সহায়তা করে।

কিছু টিউমার এমন জায়গায় থাকে যেগুলো অপসারণ করা সহজ আবার কিছু এমন জায়গায় অবস্থান করে যেগুলো সরানো কঠিন হয়ে পরে। সার্জারিতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে যেমন- ইনফেকশন এবং রক্তক্ষরণ। ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।

ব্রেন টিউমার প্রতিরোধের উপায়
ব্রেন টিউমার হলে আমাদের চিকিৎসার হাত ধরতেই হবে। তবে আমরা এই রোগের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি একটু সতর্কত হলেই। ব্রেন টিউমারের হাত থেকে বাঁচতে নিচের জিনিসগুলোর উপর একটু খেয়াল রাখুন।

১. ব্রেন টিউমারের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের প্রত্যেকের উচিত অতিরিক্ত স্ট্রেস না নেয়া।

২. নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীরভাবে ঘুমানো।

৩. রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকা।

৪. অতিরিক্ত পরিমাণ জাঙ্ক ফুড খাওয়া পরিহার করা এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা।

৫. ধূমপান, নেশা বা অ্যালকোহল ত্যাগ করা।

৬. নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।

৭. নিয়মিত ব্যায়াম করা। কারণ নিয়মিত ব্যায়াম বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৮. দীর্ঘক্ষণ মোবাইল এবং কম্পিউটারের সামনে না থাকা।

নিজেকে এই ভয়ংকর রোগের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য একটু সতর্ক হন। আর টিউমারের এই লক্ষণগুলো নজরে এলে এড়িয়ে না গিয়ে সময়মত চিকিৎসা করান এবং সুস্থ থাকুন।

Advertisements

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.