৩ডি প্রিন্টার অনেকটা আপনার কালির প্রিন্টারের মতোই কাজ করে, যেটা কম্পিউটার সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ৩ডি প্রিন্ট করার পূর্বে, প্রথমে ঐ অবজেক্টির ৩ডি স্ক্যানিং করতে হয়। যদি কম্পিউটার ডিজাইন করা ৩ডি মডেল হয়, সেক্ষেত্রে স্ক্যানিং এর প্রয়োজন পরে না।

অনেক টাইপের ৩ডি স্ক্যানার থাকে, তার মধ্যে লেজার টাইপ সবচাইতে কমন। প্রথমে বিভিন্ন দিক থেকে লেজার বীম ছুঁড়ে মেরে অবজেক্টটির ৩দিনের গভীরতা, আয়তন, কোথায় কতোটুকু উঁচু হয়ে আছে, বা কোথায় কতোটুকু ভেতরে আছে, সেটা মেপে নেওয়া হয়। লেজার বীম, অবজেক্টের গায়ে ধাক্কা লেগে আবার স্ক্যানারের কাছে ফিরে গেলে, স্ক্যানার সবকিছু পরিমাপ করে ফেলে। অনেক টাইপের স্ক্যানারে আবার অনেক ক্যামেরা লাগানো থাকে, সেই ক্যামেরা গুলো অব্জেক্টির সকল ৩ডি তথ্য গুলো ক্যাপচার করে এবং প্রিন্টিং এর জন্য প্রসেস করা হয়।

এবার আসে ৩ডি প্রিন্টিং এর পালা, ৩ডি প্রিন্টারে কোন কালি ব্যবহৃত হয়? সাধারণ কালির প্রিন্টারে তরল কালি এবং লেজার প্রিন্টারে সলিড পাউডার ব্যবহৃত হয়, কিন্ত ৩ডি প্রিন্টারে যেহেতু কোন কাগজে প্রিন্ট করে না, এটি অবজেক্ট প্রিন্ট করে, তাই কালির বদলে এখানে ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়। প্ল্যাস্টিককে একদিক থেকে ৩ডি প্রিন্টারের কালি বলতে পারেন, কারণ এটাই সেই ম্যাটেরিয়াল যা ৩ডি প্রিন্টিং সম্পূর্ণ করে। ৩ডি প্রিন্টারের একটি অত্যন্ত সরু নজেল থাকে, যেটা সম্পূর্ণ কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এই নজেল দিয়ে গলিত প্ল্যাস্টিক বেড় হয়ে আসে এবং কম্পিউটার প্রোগ্রাম অনুসারে নজেলটি সরানোরা করে প্ল্যাস্টিকের স্তরের উপর স্তর প্রিন্ট করতে থাকে, এভাবে একসময় সম্পূর্ণ অবজেক্টটির মডেল তৈরি হয়ে যায়। ৩ডি প্রিন্টারে সাধারণত থার্মো প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ গরমে প্ল্যাস্টিকটি গলে নরম হয়ে যায় এবং ঠাণ্ডা করে সেটি আবার সলিড হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here