দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানীতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার যানবাহন পারাপার হয় একেক নৌরুট দিয়ে। তবে সরকারি ছুটিসহ অন্যান্য উৎসবে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।

যেকোনো রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বাড়তি যানবাহনের চাপ থাকলে ফেরিঘাট এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় নৌরুট পারাপারে আগত যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের। এবার পদ্মা নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ও দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাট পন্টুন ভাঙনের কারণে দীর্ঘ ভোগান্তি শুরু হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের উভয় ফেরিঘাট এলাকায়।

টানা ৯ দিন ভোগান্তি শেষে শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে স্বস্তির যানবাহন পারাপার শুরু হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত নৌরুটের উভয় ফেরিঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় কোনো যানবাহন নেই বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা ও দৌলতদিয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দ্বিতীয় দফায় পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে ভাঙনের কবলে পড়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার ঘাট পন্টুনগুলো।

এছাড়া নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ফেরি চলাচলও ব্যাহত হয়। সব মিলিয়ে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে প্রায় ৯ দিন যানবাহন পারাপার করা হয় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে। তবে শনিবার সকাল থেকে অনেকটা স্বস্তির সঙ্গে যানবাহন পারাপার শুরু হলেও দুপুরের দিকে যানবাহনের অপেক্ষায় অলস বসে থাকতে শুরু করে ফেরিগুলো। সবশেষ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পারের অপেক্ষায় কোনো যানবাহন নেই বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, টানা ৯ দিনের ভোগান্তি শেষে শনিবার সকাল থেকে স্বস্তির যানবাহন পারাপার শুরু হয় পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। নৌরুটে ছোট বড় মিলে মোট ১৬টি ফেরি থাকলেও যানবাহনের চাপ না থাকায় নদীতে চলাচল করছে ১২ থেকে ১৩টি ফেরি।

যানবাহনের চাপ থাকলে বাকি ফেরিগুলোও যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চলাচল শুরু করবে। সবশেষ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পারের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ কোনো যানবাহনের সারি নেই। ঘাট এলাকায় আসা মাত্রই নৌরুট পারাপারের সুযোগ পাচ্ছে ছোট বড় যেকোনো যানবাহন। নদীতে স্রোত কমে যাওয়ায় টানা ৯ দিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তির যান পারাপার শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Source: বার্তা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here